পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারকে সহায়তা করুন। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্নের জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে। সরকার যেন আগামী নির্বাচন ভালোভাবে করে দিয়ে এই দেশকে গণতন্ত্র ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ উপহার দিতে পারে সেজন্য সকলকে সহযোগিতা করতে হবে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গামাটিতে প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মিলিত জাতীয় কঠিন চীবর দান-২০২৫ ও ৫১তম কঠিন চীবর দানোৎসবের দ্বিতীয় দিনের সমাপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এসব কথা বলেন।
পার্বত্য উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়ে সকলেই উন্নয়ন চায়। সকলের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকলে পাহাড়ে উন্নয়ন সম্ভব। প্রবারণা পুর্ণিমায় ১ দিন সরকারি ছুটির জন্য সরকার কাজ করছে।
রাঙ্গামাটির রাঙ্গাপানি এলাকার মিলন বিহার প্রাঙ্গণে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসবের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য উপদেষ্টা সহধর্মিণী নন্দিতা চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের ট্রাষ্টি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, জাতীয় কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক রনজ্যোতি চাকমা, রাঙাপানীর প্রবীন ব্যক্তিত্ব সংগীত শিল্পী রনজিত দেওয়ানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে মিলন বিহারে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপদেষ্টাগণ পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ ও দেশ বিদেশের ভিক্ষু সংঘের মধ্যে হাতে চীবর উৎসর্গ করেন।
এ সময় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, এদেশ আমাদের সবার, আমাদের সকলের মধ্যে সৌহার্দ, সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে’।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বৌদ্ধ ধর্মীয় ট্রাস্টের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সৌহার্দ্যপুর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আকাশ প্রদীপ দানোৎসর্গ, প্রজ্জ্বলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় করণীয় মৈত্রী সুত্র পাঠ সহ বিভিন্ন দানানুষ্ঠানি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে ২৪ ঘণ্টায় তৈরিকৃত চীবর উৎসর্গের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় এই দানোৎসব।
মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা বা প্রবারণা পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাসের পর শুরু হয় মাসব্যাপী এ দানোত্তম কঠিন চীবর দান।
বৌদ্ধ ধর্ম মতে দানের মধ্যে শ্রেষ্ট বলে দানোত্তম বলা হয়, এ দানের ফল অপরিসীম বলে মনে করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নর-নারীরা।









