অর্থনীতি

নগদ’র সহযোগিতায় হিমালয় থেকে দেশে ফিরবেন হাসান শাকিল

অভিযানরত যুবক পাহাড়ে হাইকিং করছে, হাসিমুখে।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

পাহাড়ে হাইকিংরত যুবক, পরিধান করেছেন ক্যাপ, জ্যাকেট, ব্যাকপ্যাক ও স্মার্টওয়াচ।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

১৭০০ কিলোমিটার। দুটি দেশ। কয়েক হাজার ফুট উচ্চতা। জনমানুষের দেখা নেই বললেই চলে। বিশ্বের অন্যতম দুর্গম এই ক্রসকান্ট্রি অভিযানেরই নাম ‘দ্য গ্রেট হিমালয় ট্রেইল’। এখন অবধি মাত্র ৩২ জন মানুষ এই ট্রেইলে অভিযান সম্পন্ন করেছেন। ৩৩তম মানুষ হিসেবে এই তালিকায় নাম লেখালেন বাংলাদেশের ইকরামুল হাসান শাকিল।

এই ট্রেইল জয় করার পর শাকিল আটকে গিয়েছিলেন নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। হঠাৎ ঘাড়ে এসে পড়া বাড়তি খরচের দেনায় আটকে ছিলেন তিনি। শেষমেশ অর্থ না হলে ফিরতে পারছিলেন না দেশে। এই সময়ে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় অবশেষে সব দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে দেশে ফিরছেন শাকিল। নগদ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুকের একান্ত চেষ্টায় ঋণমুক্ত হয়ে দেশে ফিরছেন তিনি।

কাঠমান্ডু থেকে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে শাকিল বলেন, এটা আমার জন্য অসাধারণ একটা পাওয়া। আমি একদিন আগেও বুঝতে পারছিলাম না, কী করব। এক বছরের কষ্ট করে ট্রেইল জয় করাটা আটকে গিয়েছিল এখানে এসে। আপনাদের দোয়া ও চেষ্টায় সব ঝামেলা থেকে মুক্ত হলাম। আমি নগদকে মন থেকে ধন্যবাদ জানাই।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ছেলে শাকিল ছোটবেলা থেকেই নানারকম সামাজিক কাজে জড়িত। বড় হয়ে ওঠার পর রোমাঞ্চের টানে জড়িয়েছেন অভিযানে। উত্তরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করার পর যুক্ত হন ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব’-এ। পর্বতারোহণের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে এম এ মুহিতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো যাত্রা করেন কেয়াজো-রি পর্বতশৃঙ্গে। ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে আরও প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৯ সালে আবার বেরিয়ে পড়েন পর্বত গিরির দুর্গম পথে। পাঁচ দেশের আট পর্বতারোহীর এক দলের সাথে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হিমলুংয়ের চূড়ায় পা রাখেন তিনি। প্রশিক্ষণকালেই জয় করেন ‘দ্রৌপদী-কা-ডান্ডা-২’ শৃঙ্গ।

এরপর লক্ষ্য ঠিক করেন এই হিমালয় ট্রেইল। শাকিলের দীর্ঘ অভিযানটি শুরু হয় গত বছরের জুলাই মাসে। মাঝে বাংলাদেশ-নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুইটি পর্বত সফলভাবে আরোহণ করেন শাকিল। ৪১ দিনের এ ট্রেকিং শেষে আবার গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইলের মানাসলু সার্কিট অংশে ফিরে আসেন তিনি এবং রুবি ভ্যালি শেষ করে পৌঁছে যান ল্যাংটাং অঞ্চলে। মধ্যে ভিসা ও অন্যান্য কাজে আরেকটা বিরতি দিয়েছিলেন। অবশেষে এই ৯ জুলাই কাঠমান্ডু ফিরে আটকে যান অর্থাভাবে।

এই খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সেটি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নগদ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুকের। তিনি সাথে সাথে উঠেপড়ে চেষ্টা শুরু করেন। শাকিলের এক বন্ধু, একজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর সমস্যাটা সমাধানে আর খুব বেশি সময় লাগেনি।

শাকিলের বন্ধু, সংবাদকর্মী তালুকদার মনিরুজ্জামান মিল্টন বলেন, আমরা একসাথে নাটক করেছি, একসাথেই চলেছি অনেকদিন ধরে। আমি ওর অভিযাত্রার খবর রাখছিলাম, প্রতিদিনই রাখতাম। ও আসলে বিপদে পড়েছিল অথরিটির কিছু আইনের কারণে। নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ওকে বাধ্যতামূলক গাইড ও মালামাল বহনকারী নিতে হয়েছিল। তাদের সব খরচ বহন করতে গিয়ে ও ঋণে পড়ে যায়। আমি নগদ কর্তৃপক্ষের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ এভাবে ওর সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য। না হলে ওকে কতদিন আটকে থাকতে হতো, তা বলা কঠিন।

এখন শাকিল ও তার বন্ধুরা সকলে ভারমুক্ত। শাকিল এখন এখানে আটকে থাকতে চান না। এই মাসের শেষ দিকে দেশে ফিরবেন। তারপর তার মাথায় আছে আরও বড় সব অভিযানের চিন্তা। আর চিন্তাটাকে এই অবধি আনতে যিনি বড় ভূমিকা রাখলেন, সেই তানভীর এ মিশুক বলেন, শাকিলের মতো ছেলেরা আমাদের গর্ব। তারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমি কাল যখন পত্রিকায় পড়লাম যে, অল্প কিছু টাকার জন্য তার দেশে ফেরা আটকে গেছে, খুব খারাপ লেগেছে। আমি তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, তার পাশে থাকবো। কারণ নগদ এরকম নতুন কিছু করাতেই বিশ্বাস করে।

বিষয়:নগদহিমালয়
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…