হয়রানি নিয়ে প্রচলিত ধারণা হলো—এটি শুধু নারীরাই বেশি ভোগেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। বিভিন্ন গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বলছে, নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরাও মানসিক, শারীরিক এবং অনলাইন হয়রানির শিকার হন নিয়মিতই।
বাংলাদেশে নারীরা প্রায়ই রাস্তা, কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশ্লীল মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মুখোমুখি হন। অন্যদিকে পুরুষরা বুলিং, কর্মক্ষেত্রে অপমান, মানসিক চাপে ফেলা, হুমকি বা অনলাইন ব্ল্যাকমেইলের মতো বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।
সমস্যার শিকড় ছোটবেলায়
সমাজে একটি ভুল ধারণা বহুদিন ধরে প্রচলিত “পুরুষ মানুষ কাঁদে না।” এই ধারণাই অনেক পুরুষকে ছোটবেলা থেকেই ভয়, লজ্জা ও চুপ থাকার অভ্যাস শিখিয়ে দেয়। ফলে হয়রানির শিকার হয়েও অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না, সামাজিক ট্যাবুর ভয়ে চেপে যান।
বাংলাদেশে সচেতনতা বাড়ছে ধীরে ধীরে
আইন অনুযায়ী, হয়রানির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ই অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে সংকোচ, ধারণাগত বাধা এবং সচেতনতার অভাবে অনেক পুরুষ সামনে আসেন না। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনা আশা জাগাচ্ছে—অনেকে সাহস করে আইনি সহায়তা নিচ্ছেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একই চিত্র
বিদেশে পুরুষদের হয়রানির নানা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে:
নিউ ইয়র্কে ৬৮ বছর বয়সী প্রশিক্ষক: ২০২৫ সালের আগস্টে, Equinox–এ কাজ করা ৬৮-বছর বয়সী প্রশিক্ষক Eric Houston দাবি করেছেন যে এক নারী সহকর্মী (Dianna Scotece) বছরের পর বছর যৌন হয়রানি করেছেন। New York Post+2iLovetheUpperWestSide.com+2
হুটার্স মামলা (পুরুষ কর্মীদের হয়ে হয়রানি অভিযোগ): দুই পুরুষ (PJ Cagnina এবং Scott Peterson) ২০১৬ সালে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে তাঁদের পুরুষ সুপারভাইজার যৌন হয়রানি করেছে। CBS News+2Los Angeles Times+2
টেক্সাসে পুরুষ রোগীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও ৭২ মিলিয়ন ডলার রায়: এক পুরুষ রোগী, “P.H.” নামে, চিকিৎসার নামে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। ২৪ June ২০২৪ তারিখে মামলায় আদালত Brent Coon & Associates–র পক্ষে US$ 72,468,000 (প্রায় ৭২ মিলিয়ন) রায়ে দান করেন। Personal Injury Lawyers Beaumont, TX+1
হয়রানির শিকার নারী হোক বা পুরুষ প্রত্যেকের অনুভূতি, আতঙ্ক এবং মানসিক চাপ একে অপরের মতোই বাস্তব। তাই প্রথম প্রয়োজন সমাজে লিঙ্গভিত্তিক স্টেরিওটাইপ ভাঙা।
সাহস, সচেতনতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। হয়রানিকে স্বীকার করা, কথা বলা এবং বিচার চাওয়া এটি প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার।









