এবারের হ্যালোইনেও মিষ্টিপ্রেমীদের খরচ বাড়তে যাচ্ছে। আগের বছরের তুলনায় এবার চকলেটজাত মিষ্টির পরিমাণ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। কোকো বিন বা কাকাও বীজের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আজ ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্রাউন্ডওয়ার্ক কলাবরেটিভের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে হ্যালোইনের মিষ্টির দাম গত বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির চারগুণ। ২০২৪ সালে হ্যালোইন মিষ্টির দাম বৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে হঠাৎ দাম বৃদ্ধির ফলে অনেকেই কম দামে বিকল্প মিষ্টি যেমন গামি বা ক্যান্ডি বেছে নিচ্ছেন।
ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আমেরিকানরা হ্যালোইনের মিষ্টিতে খরচ করেছেন প্রায় ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। চকলেট প্রস্তুতকারকদের মতে, কোকো বীজের দাম গত বছর বিশ্ববাজারে ১৭৮ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের বছরও দাম বেড়েছিল ৬১ শতাংশ। আফ্রিকার ঘানা ও আইভরি কোস্টে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কোকো উৎপাদন কমে যাওয়াই এর মূল কারণ।
এস্কাজু চকলেটস নামের যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট চকলেট কোম্পানি জানায়, তারা ল্যাটিন আমেরিকার ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছ থেকে কোকো সংগ্রহ করে থাকে এবং এখন তাদের চারগুণ পর্যন্ত দাম দিতে হচ্ছে। এই বাড়তি খরচ মেটাতে তারা দোকানের ভাড়া কমাতে সস্তা এলাকায় স্থানান্তর করছে, ছোট আকারের হট চকলেট দিচ্ছে এবং বিকল্প মিষ্টিজাত পণ্য প্রচার করছে। অন্যদিকে বড় ব্র্যান্ডগুলোও প্যাকেট ছোট করছে, অর্থাৎ একই দামে কম পরিমাণ চকলেট বিক্রি করছে।
অর্থনীতিবিদ ডেভিড ব্রাঞ্চ বলেন, অনেক কোম্পানি এখন কম কোকো এবং বেশি চিনি ব্যবহার করছে, যেমন আগে ৭৫ শতাংশ কোকোযুক্ত বার এখন ৬৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। ফলে চকলেটের স্বাদও আগের তুলনায় হালকা মনে হবে। এদিকে তরুণ ভোক্তারা এখন গামি ও টক-মিষ্টি ক্যান্ডির প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে চকলেটের বিকল্প হিসেবে এগুলোর উৎপাদন বাড়ছে। গামি ক্যান্ডির বিক্রি গত বছর বেড়েছে ৭ শতাংশ। এছাড়া নতুন স্বাদের মিষ্টিও বাজারে আসছে—যেমন দারুচিনি টোস্ট স্বাদের কিটক্যাট, যা চকলেটের ব্যবহার কমিয়ে খরচ বাঁচাতে সহায়তা করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত আগামী ফেব্রুয়ারির ভালোবাসা দিবস পর্যন্ত চকলেটের দাম আগের মতোই উঁচু থাকবে। কারণ এখন বাজারে যে চকলেট বিক্রি হচ্ছে, তা ২০২৪ সালের দামি কোকো দিয়ে তৈরি। সব মিলিয়ে, এ বছরের হ্যালোইনে মিষ্টির ঝুড়িতে থাকবে কম চকলেট, বেশি ক্যান্ডি এবং অনেক বেশি দাম।









