ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ হত্যা মামলায় তাকে রিমান্ড আদেশ দেওয়া হয়। শুনানীর সময় কাঠগড়ায় অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালত এই আদেশ দেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর আক্কাস মিয়া আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। হাজী সেলিমের পক্ষে আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় লালবাগ থানার আজিমপুর সরকারি আবাসিক এলাকায় ২০ তলা ভবনের সাত নম্বর বিল্ডিংয়ের পাশে রাস্তার ওপরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ শত শত সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি বর্ষণ করা হয়। ঘটনাস্থলে ইফতি, জুবায়ের, তানভীর, ইসমাইলসহ অনেক নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা আহত হয়। তাদের মধ্যে বাদীর ছেলে আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্র খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।
আরও বলা হয়, আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই মামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও কৌশলে বিভিন্ন তথ্য গোপন করাসহ এড়িয়ে যাচ্ছেন। আসামিকে ঘটনার বিষয়ে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাপর পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের জন্য ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ডের একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, ১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে হাজী সেলিমকে আটক করা হয়।
পুরান ঢাকার লালবাগ ও চকবাজার এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম দীর্ঘ দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৯৬ সালে। তৎকালীন ঢাকা–৮ আসন থেকে ৩ বারের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।
চলতি বছর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান তার ছেলে সোলায়মান সেলিম। তিনিও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এর আগে ২০০৭ সালে হাজী সেলিম ও তার স্ত্রী গুলশান আরার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয়। সে মামলায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয় তার। ২০২২ সালে ওই মামলায় কারাদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে সাজা কমিয়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর ২০২৩ সালে উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেন।









