ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। কোনো জটিলতার মুখোমুখি না হলে সোমবার থেকে শুরু হবে শুনানি। রায়ে ম্যানচেস্টার সিটির শাস্তি হোক এমনটাই চাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলো, বলছেন কোচ পেপ গার্দিওলা।
লা লিগা সভাপতি জাভিয়ের তেবাস সবসময় পিএসজি ও ম্যানসিটি নিয়ে সমালোচনা করেন থাকেন। আগে থেকেই তেবাসের দাবি ছিল, এ দুটি ক্লাব আসলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এবং সে জন্যই ‘অর্থনৈতিক ডোপিং’ করছে।
সিটির শাস্তি প্রসঙ্গে স্প্যানিশ একটি সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তেবাস বলেছিলেন, ‘আমি প্রিমিয়ার লিগের বেশ কিছু ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের বেশির ভাগই মনে করে, সিটির শাস্তি পাওয়া উচিত।’
সেটির জবাবে স্পেনিয়ার্ড কোচ গার্দিওলা বলেছেন, ‘এই প্রথম আমি তেবাসের সঙ্গে একমত। প্রিমিয়ার লিগের সব ক্লাবই চায়, আমাদের শাস্তি হোক, সেটা নিশ্চিত। কিন্তু এ কারণেই আমি জনাব তেবাস ও প্রিমিয়ার লিগের বাকি সব ক্লাবকে বলতে চাই, স্বাধীন প্যানেলের রায়ের জন্য অপেক্ষা করুন। আধুনিক গণতন্ত্রে ন্যায়বিচার আছে। এটা তার চেয়ে বেশি জটিল নয়।’
‘আমি জানি না, তিনি কিংবা প্রিমিয়ার লিগের বাকি দলগুলো আইনজীবী কি না, তাই এমন বলছি। এটা উয়েফার সঙ্গেও ঘটেছে। আমরা মনে করি, আমরা কোনো ভুল করিনি।’
‘এটা দ্রুত শুরু হয়ে আশা করি দ্রুতই শেষ হবে। ভালো লাগছে যে এটা সোমবার শুরু হবে। জানি, অনেক গুজব ছড়াবে এবং রায়ের বিষয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদেরও আবির্ভাব ঘটবে। আমি জানি, লোকে কিসের অপেক্ষায় আছে, কী প্রত্যাশা করে। দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগপর্যন্ত সবাই নিরপরাধ।’
এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নয় মৌসুম সময়কালে অনিয়মগুলো সংঘটিত হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছে প্রিমিয়ার লিগ। চার বছর তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একটি স্বাধীন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। শুনানি প্রায় দুমাস স্থায়ী হতে পারে। আপিল পরবর্তী চূড়ান্ত রায় আসতে পারে ২০২৪-২০২৫ মৌসুমের শেষদিকে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯-১০ মৌসুমে সঠিক আর্থিক তথ্য দেয়ার নিয়ম ভেঙেছে সিটি। ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত উয়েফার ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লের নিয়ম মানেনি। ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের মুনাফা ও স্থায়িত্বের (পিএসআর) নিয়ম অনুসরণ করতেও ব্যর্থ হয়েছে ক্লাবটি।
অবশ্য প্রিমিয়ার লিগের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। কমিশনের কাছে জবাবদিহিতার সময় বলেছে, ‘ক্লাব একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে এই বিষয়টির পর্যালোচনাকে স্বাগত জানায়।’
দোষী সাব্যস্ত হলে পয়েন্ট কাটা যাবে, এমনকি লিগ থেকে অবনমনের মতো শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে ম্যানচেস্টার সিটিকে। পিএসআর আইন ভাঙার দায়ে গত মৌসুমে পয়েন্ট কাটা গিয়েছিল এভারটন ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের।









