দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পূর্ণ না হতেই বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে আহ্ববায়ক কমিটি। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) চিঠি দিয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির প্রধান মামুনুর রশীদ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে তাদের কাজের সমস্যা হচ্ছে। মামুনুর রশীদ বলেন,“কাজের পদ্ধতিগত সংঘাতের কারণে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আহ্বায়ক কমিটির প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছি।”
মামুনুর রশীদ স্বাক্ষরিত অব্যাহতি চাওয়া সেই চিঠিতে কী লেখা আছে, তা চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো:
প্রিয়
সহকর্মী বন্ধুগণ,সম্প্রতি বাংলা দেশের নাট্যকর্মীদের প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান এর একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ১৯১ জন থিয়েটার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। ফেডারেশনের নিষ্কৃয়তা, অর্ন্তবিরোধ নিরসন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির কার্যক্রম পুনরায় কি করে শুরু করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানান বিতর্কের পর, ফেডারেশান পুর্নগঠনের জন্য একটি আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। ওই দিন সাধারণ সভার আগে কেন্দ্রিয় কমিটির একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত প্রতিনিধিদের সামনে কেন্দ্রিয় কমিটির প্রস্তাবগুলি উত্থাপন করা হয় এবং সেই সাথে নানান দিক আলোচনা করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠিত হয় যার আহবায়ক করা হয় আমাকে। সেই সঙ্গে রুটিনমাফিক কাজ করার জন্য কেন্দ্রিয় কমিটিকেও রাখা হয়। কিন্তু এ কথাও বলা হয় যে, ফেডারেশানের পুর্নগঠনের জন্য সকল সিদ্ধান্ত আহবায়ক কমিটিই নেবেন। এই কাজে কেন্দ্রিয় কমিটি আহবায়ক কমিটিকে সহায়তা করবে। আমি এবং সাধারণ সভায় নির্বাচিত তিনজন সদস্য মলয় ভৌমিক, আহমদ ইকবাল হায়দার, নাদের চৌধুরী ও আমাদের মনোনীত সদস্য নাজনীন হাসান চুমকিকে নিয়ে কাজ শুরু করি। এ যাবৎ কেন্দ্রিয় কমিটির সাথে তিনটি সভা হয় এবং আমাদের কার্যক্রমও চলতে থাকে। প্রথমেই ফেডারেশানকে আরো সক্রিয় করার স্বার্থে সকল দলের কাছে তিন বছরের কার্যক্রমের একটি বিবরণী চেয়ে পাঠানো হয়। কোনো কোনো সংগঠনের বিবরণী ইতিমধ্যেই আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এ দিকে নাট্যদলগুলির কার্যক্রম পাঠানোর বিষয়ে কেন্দ্রিয় কমিটির কিছু সদস্যের বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। উপরন্ত ইতিমধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তপন হাফিজ আবার একটি তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করেন। ফলে আবারও নতুন করে প্রশ্ন জাগে। অথচ সম্পূর্ণ কাজটি আমাদেরই করার কথা ছিল। রুটিন ওয়ার্ক এর বিষয়ে একটি নতুন ব্যাখা উপস্থাপন করেন কামাল বায়েজিদ। কেন্দ্রিয় কমিটির নিয়মিত সভা এবং কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ারও তারা এককভাবে ঘোষণা করেন।। ইতিমধ্যে দেশ নাটকের প্রদর্শনী বন্ধ হবার পর ফেডারেশন থেকে আমরা একটি প্রতিবাদী সমাবেশের ব্যবস্থা করি। সেই প্রতিবাদী সমাবেশে দেশ নাটকে হামলাকারীরা পুনঃরায় আক্রমণ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ১৫ নভেম্বর একটি প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেই। পরের দিন সেখানে আরণ্যকের কম্পানী নাটকের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়া হয় এবং সারা দেশে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচী গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পরের দিন কেন্দ্রিয় কমিটিকে এবং বিভিন্ন সদস্যদলকে নিয়ে প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। প্রেস কনফারেন্সটি হয় এবং ওই দিনের হামলাকারীরা যথারীতি শিল্পকলা একাডেমির গেটে আবার উত্তেজনার সৃষ্টি করে। যাই হোক বাংলাদেশের কোথাও কোথাও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তেমন কোনো বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেনি। তবে ১৪ নভেম্বর আরণ্যক নাট্যদল একটি প্রতিবাদী সভা ও পথনাটকের প্রদর্শনী করে প্রাচ্যনাটকে সঙ্গে নিয়ে। এরপরেই কামাল বায়েজিদ দুটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে ১৫ নভেম্বরের সমাবেশ বাতিল করে দেয় এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করে। এসব ঘটনার বর্ণনা থেকে নিশ্চয়ই বোঝা যায় আহবায়কদের কর্মপদ্ধতির সাথে কেন্দ্রিয় কমিটির পদ্ধতিগত কিছু সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্যে আবার একটি যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় ইতিমধ্যে সংগঠিত ফেডারেশনার নির্বাহী কমিটির অর্ন্তগত কিছু বিরোধ এক পর্যায়ে বচসায় পরিনত হয়। কিন্তু এ অবস্থায় আবারও সকলকে মনে করিয়ে দেয়া হয় যে যেকোনো বিষয়ে আহ্বায়কদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। পরবর্তীকালের কর্মকাণ্ড এবং হোয়াটসআপ গ্রুপের বিভিন্ন মন্তব্য থেকেই এই বিষয়গুলি আপনাদের কাছে স্পষ্ট হবে। এমতাবস্থায় আমরা মনে করি আহ্বায়ক কমিটির পক্ষে সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে যোগ্যতর কোনো ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিগণদ্বারা এই দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করে ভবিষ্যতে ফেডারেশানকে সুন্দর ও সুচারুভাবে পরিচালনার পথ অনুসন্ধান করা উচিত।
গত ২৫ অক্টোবর ফেডারেশনের নির্বাহী পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ সভায় অভিনেতা-নির্দেশক মামুনুর রশীদকে প্রধান করে ফেডারেশন পুনর্গঠন ও সংস্কারের জন্য পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন–অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, আহমদ ইকবাল হায়দার, নাদের চৌধুরী ও নাজনীন হাসান চুমকি।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটিকেও বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল ওই সভায়, তবে ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকীকে বহিষ্কার করে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেডারেশনের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য লাকী ইনামকে।


![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}](https://www.channelionline.com/wp-content/uploads/2024/11/allu-2-75x75.jpg)






