অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত জুলাই ঘোষণাপত্রে ১৯৭২ এর সংবিধানের প্রণয়ন পদ্ধতি এবং সাংগঠনিক কাঠামোগত দূর্বলতা নিয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণফোরাম। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী শক্তিই বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭২ এর সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে থাকে বলে জানায় গণফোরাম।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকালে গণফোরামের সভাপতি পরিষদের এক সভায় এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ৭২ এর সংবিধানের প্রণয়নপদ্ধতি এবং কাঠামোগত দূর্বলতা নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্রে বিতর্ক সৃষ্টি করার কারণে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৭১ সনের ২৬ মার্চে স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ১০ এপ্রিলের প্রোক্লেমেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্টের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর উহার ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরে কোন রাজনৈতিক দল বা সরকার ৭২ এর সংবিধানের প্রণয়ন পদ্ধতি নিয়ে কখনো প্রশ্ন উত্থাপন করেনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে জনআকাংখা অনুযায়ী সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন হতে পারে কিন্তু সংবিধানের প্রণয়ন পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে মুক্তিযুদ্ধকেই বিতর্কিত করা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধুমাত্র ’৭২ এর সংবিধানকে দায়ী করে পরবর্তী সরকারগুলির রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যর্থতাকে আড়াল করার হীনমানসিকতা পরিলক্ষিত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতাকে কোনভাবেই সংবিধানের উপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে না।
গণফোরাম এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান, সভাপতি পরিষদ সদস্য জ্যেষ্ঠ এডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ, মেজবাহ উদ্দিন, এডভোকেট সেলিম আকবর, এডভোকেট সুরাইয়া বেগম, শাহ নূরুজ্জামান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।









