বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ভাষা সংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর স্মরণসভা করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদ। শনিবার (৩০ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ওই স্মরণসভা হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি দীপক শীলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজার সঞ্চালনায় গোলাম আরিফ টিপুর অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। গোলাম আরিফ টিপুর সংগ্রামী ও কর্মময় জীবনী পাঠ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজোয়ান হক মুক্ত।
স্মরণসভায় আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শিমন, ঐক্য ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম এ সবুর, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ তারেক, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান বাবু, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক সোহরাব হোসেন এবং গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাসান তারিক চৌধুরী।
এছাড়াও গোলাম আরিফ টিপুর কর্মময়, সংগ্রামী জীবনের স্মৃতিচারণ করেন তার সহধর্মিণী জাহান আরা বেগম, তার বড় মেয়ে ডালিয়া নাসরিন, ছোট মেয়ে ডানা নাজলী এবং নাতনী প্রীতি প্রিয়াংকা প্রিনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল তার বক্তব্যে বলেন, ‘তিনি সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। অত্যন্ত সংযমী মানুষ ছিলেন, বিলাসবহুল জীবন তাকে টানেনি। গণহত্যা যারা করেছে তাদের সাজা দেওয়ার জন্য তিনি সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন। শুধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর দেশে দেশে যেখানে গণহত্যা হয়েছে তার বিরুদ্ধেও তার অবস্থান ছিল। তার লড়াই সংগ্রাম ও কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘গোলাম আরিফ টিপু তার দীর্ঘ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে নির্দ্বিধায় আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তার জীবনাচার সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি ছিলেন সবার আশ্রয়স্থল। তিনি যখন ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আবার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ নবায়ন করেন। জীবনের শেষ দিন অবধি মানুষের জন্য কাজ করার আকাঙ্খা ধরে রেখেছেন। এই বৈরী সময়কে অতিক্রম করতে হবে এবং তিনি যে মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছেন সেই লক্ষে এই তরুণ প্রজন্মকে কাজ করে যেতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএম আকাশ তার বক্তব্যে বলেন, ‘কারও কারও মৃত্যু পাখির পাখার মতো হালকা কারো কারো মৃত্যু পাহাড়ের মতো ভারী। গোলাম আরিফ টিপুর মৃত্যুটা পাহাড়ের মতোই ভারী। সমাজপ্রগতির লড়াই এগিয়ে নিতে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আমজাদ হোসেন, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শরীফুজ্জামান শরীফ, লুনা নূর, মানবেন্দ্র দেব, লাকী আক্তার, ফয়েজ উল্লাহসহ ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্টজনেরা।







