জার্মানির সাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের কেউ যদি দেশটির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে চায় তবে তাকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকারের বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আর এমনটা না করলে তিনি নাগরিকত্ব পাবেন না। দেশটির অন্য রাজ্যগুলোতেও এই নিয়ম চালু করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
সংবাদ মাধ্যম ডয়েচ ভেলে জানিয়েছে, জার্মানির পূর্ব অঞ্চলের রাজ্য সাক্সনি-আনহাল্ট বিদেশিদের নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত যুক্ত করেছে। আবেদনকারীকে এখন লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে, তিনি ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করেন এবং রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিপক্ষে যে কোন প্রচেষ্টার নিন্দা জানান।
এই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তামারা জিশাং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এই নির্দেশনার বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং বাকি ১৫টি রাজ্যের প্রতিও একই নিয়ম আরোপের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের ওপর গুরুত্বারোপ কোন চাপ নয় বরং ইহুদিদের প্রতি ঘৃণা এবং ইহুদিবিদ্বেষ বাদ দিয়ে মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতার অধিকার তুলে ধরার প্রচেষ্টা। এটি সাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে ইহুদিদের জীবন বিকাশের জন্য আরও সুযোগ করে দেওয়ার একটি উপায়।
জার্মানির নাগরিকত্ব আইন কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হলেও এর বাস্তবায়ন দেশটির ১৬টি রাজ্যের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আর তাই সাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য পৃথকভাবে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে এই নতুন শর্ত যুক্ত করতে পেরেছে। জার্মানির নাগরিকত্ব লাভের ক্ষেত্রে ইসরায়েল সংক্রান্ত একই ধরনের শর্ত আরোপের প্রস্তাব রয়েছে জার্মান পার্লামেন্টও। সেখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সারা জার্মানিতেই তখন নিয়মটি কার্যকর হবে।
জার্মানির সরকারের নীতিনির্ধারকরা বরাবরই ইসরায়েল প্রতি জার্মানির ঘোষিত দায়িত্বের সমর্থন করে আসছে। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১২০০ জন নিহতের ঘটনার পর দেশটির বর্তমান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস আরও জোরালোভাবে একাধিকবার এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।







