ফিলিস্তিনের গাজায় স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এমন এক ‘বিপর্যয়ের’ মুখোমুখি যা ‘আগামী কয়েক প্রজন্ম’ ধরে চলবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস।
সম্প্রতি বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে প্রোগ্রামে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. তেদরোস বলেন, গাজার জনগোষ্ঠীর জটিল চাহিদা মেটাতে বড় পরিমাণে সাহায্যের প্রয়োজন।
ইসরায়েল ১০ অক্টোবর হামাসের সঙ্গে শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় আরও বেশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সাহায্য পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে ড. তেদরোস জানিয়েছেন, এই সাহায্যের পরিমাণ এখনও গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গাজার মানুষ দুর্ভিক্ষ দেখেছে, ‘ভয়াবহ’ আঘাতের সম্মুখীন হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর ধ্বংসের কারণে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এছাড়া মানবিক সাহায্যের প্রবেশ সীমিত। এটি এক ভয়ংকর সমন্বয় তৈরি করছে, যার ফলে পরিস্থিতি দুঃসহ এবং বর্ণনা করার বাইরে।’
গাজার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ক্ষুধা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমন্বয় দেখি, তাহলে এটি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি গুরুতর সংকট।’
মঙ্গলবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে ৬,৭০০ টনের বেশি খাবারের লরি গাজায় প্রবেশ করেছে। তবে এটি দৈনিক ২,০০০ টনের লক্ষ্যের তুলনায় এখনও অনেক কম।
ড. তেদরোস জানিয়েছেন, গাজায় দৈনিক ৬০০টি সাহায্য লরি পৌঁছানো প্রয়োজন, কিন্তু গড়ে আসছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০টি। তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে সাহায্য ও বিস্তৃত সংঘাতকে আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ড. তেদ্রোস বলেছেন, সাহায্যকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা’ উচিত নয়। তিনি ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছেন, সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন শর্ত আরোপ করা হবে না, বিশেষ করে গাজায় থাকা মৃত বন্দিদের দেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে, যা শান্তিচুক্তির সময় সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।









