তাইজুল ইসলামের বল অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের গ্লাভসে স্পর্শ করে সিলি পয়েন্টে থাকা মুমিনুল হকের হাতে যায়। মুমিনুল মিস করেননি, তালুবন্দি করেন বল। তাতেই থেমে যায় শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তির ক্যারিয়ার। মাঠে ছুটে এসে করমর্দন করে বিদায় জানান বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। এরপর সতীর্থদের করতালির মাঝেই ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। বিদায়ী টেস্ট খেলার পর বললেন, ‘অবসর ঘোষণার পর যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি, তা কল্পনাতীত।’
গলে ২০০৯ সালে সাদা পোশাকে ক্যারিয়ার শুরু করেন ম্যাথুজ। ১৬ বছর পর একই মাঠে খেললেন শেষ ইনিংসটি, ৪৫ বলে ৮ রান করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাথুজের বিদায়ী টেস্ট ড্র করে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে ম্যাথুজ আবেগ মাখা কণ্ঠে জানিয়েছেন তার দীর্ঘ পথচলা।
বলেছেন, ‘এই যাত্রা সহজ ছিল না। ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ। টেস্ট ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট। বিদায় বলছি, যেন এক অংশ হারিয়ে যাচ্ছে আমার ভিতর থেকে।’
‘আমি অভিভূত। টেস্ট থেকে অবসর নেয়ার পর যেভাবে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। এটা ছিল সহজ পথ নয়—উত্থান-পতনে ভরা দীর্ঘ এক যাত্রা। তবে সবার ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। টেস্ট ফরম্যাট আমার সবচেয়ে প্রিয়, এখান থেকেই সরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। এখন সময় নতুন প্রজন্মের হাতেই ব্যাটন তুলে দেয়ার।’
ম্যাথুজ কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশের প্রতি। বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে অভিনন্দন। শান্ত, মুশফিক দারুণ ব্যাট করেছে। নিশাঙ্কাও দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় কিংবা শ্রীলঙ্কায় অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করা-এই স্মৃতিগুলোই আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত।’
সাদা পোশাকের ক্যারিয়ারে ১১৯ টেস্টে ১১২ ইনিংসে ব্যাট করে ৮২১৪ রান করেছেন। ৪৪ গড়ে ৬টি শতক, ৪৫টি ফিফটি রয়েছে। সর্বোচ্চ ২০০ রানের ইনিংস খেলেছেন। বল হাতে ৮৬ ইনিংসে নিয়েছেন ৩৩ উইকেট। এছাড়া অধিনায়ক হিসেবে ৩৪টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন লঙ্কানদের।









