১৯৯৯ সালের ২৮ মে, সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় ‘অনন্ত ভালোবাসা’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন যে তরুণ, তিনিই আজ ঢালিউডের সবচেয়ে বড় নাম। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ২৬ বছর, কিন্তু শাকিব খানের আলো একটুও ম্লান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হয়েছেন আরও পরিণত, আরও জনপ্রিয়, আরও কিংবদন্তি।
শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। লড়াই ছিল, প্রত্যাখ্যান ছিল, কিন্তু হার মানেননি। ধৈর্য, অধ্যবসায় আর অসম্ভব রকমের আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে জয় করেছেন তিনি। আর আজ? আজ বাংলা সিনেমার সবচেয়ে বড় ট্রেডমার্কের নাম শাকিব খান।
সিনেমাই ছিল শাকিবের ধ্যান, জ্ঞান। সিনেমা নিয়ে তিনি ভাবেন। এ কারণে আগলে রেখেছেন বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে। ২৬ বছরের পথচলায় তার ক্যারিয়ার চোখে পড়ার মতো। অ্যাকশন বা রোমান্টিক, আবেগী যে লুকই হোক না কেন, সবখানেই দশে দশ শাকিব খান।
১৯৯৯ সালে ক্যারিয়ার শুরু হলেও শাকিবের রাজত্বটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সাল থেকে। বলা হয়, এই বছরটা ছিল শাকিবের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। ‘আমার স্বপ্ন তুমি’, ‘কোটি টাকার কাবিন’, ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’সহ একের পর এক ব্লকবাস্টার দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের রাজত্ব। ২০১১ সালের ‘কিং খান’ ছবির পর দর্শকদের কাছে তার নামই হয়ে যায় কিং খান।
সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন বারবার। ‘শিকারি’ ছবিতে নতুন লুকে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দেন। এরপর ‘নবাব’, ‘চালবাজ’, ‘পাসওয়ার্ড’, ‘বিদ্রোহী’, ‘প্রিয়তমা’— প্রতিটি ছবিতে এসেছে নতুন রূপ, নতুন শাকিব।
‘প্রিয়তমা’ ছবিতে তার বৃদ্ধ লুক দর্শকদের মুগ্ধ করে। আর ‘তুফান’ ও ‘বরবাদ’-এর মাধ্যমে পৌঁছে যান গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে। এমনকি আসন্ন ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তাণ্ডব’ নিয়েও দর্শকের প্রত্যাশা তুঙ্গে।
শুধু অভিনেতা নন, শাকিব খান এখন এক প্রতিষ্ঠান। তার ওপর ভরসা করে দাঁড়িয়ে আছে বহু প্রযোজনা সংস্থা, সিনেমা হল, দর্শকের ভালোবাসা আর পুরো ইন্ডাস্ট্রি।
২৬ বছরের ক্যারিয়ার পূর্তি উপলক্ষে শাকিবের পেজ থেকে এক পোস্টে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ১৯৯৯ সালের ২৮মে ‘অনন্ত ভালোবাসা’-এর মাধ্যমে উত্থান হয়েছিল এক নতুন তারকার। যিনি নিজের প্রতিভা, অধ্যাবসায়, পরিশ্রম, দক্ষতায় মাত্র ৬ বছরের মাথায় ক্যারিয়ারে রাজত্ব করতে শুরু করেছিলেন, এবং বর্তমানে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর শীর্ষ অবস্থান পৃথিবীর সকল বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে দৃশ্যমান! দেখতে দেখতে খ্যাতির আকাশের এই শুকতারা তার রাজকীয় পথচলার ২৬বছর পূর্ণ করলেন।”
২৬ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাকিব খান নিজেকে বারবার ভেঙে গড়েছেন, প্রমাণ করেছেন নিজের অবস্থান। বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে তৈরি করেছেন স্থায়ী আসন। শুধুই নায়ক নন, তিনি হয়ে উঠেছেন ঢাকাই সিনেমার প্রতীক।
বাংলা চলচ্চিত্রের এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী অভিনেতা হিসেবে শাকিব খান এখন শুধুমাত্র দেশের সীমানায় নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে এক পরিচিত মুখ। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি যেমন অনুপ্রেরণা, তেমনি ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক নির্ভরতার নাম।
তার ২৬ বছরের এই পথচলা সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এক ইতিহাস, যা আরও বিস্তৃত হোক—এমনটাই প্রত্যাশা চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবার।









