কাগজের শপিং ব্যাগ মূল্য দিয়ে কেনা বন্ধ করে ফ্রিতে দেয়ার আবেদন জানিয়ে ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ংকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির করপোরেটর কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মগবাজার আউটলেটের স্টোর ম্যানেজার বরাবর সোমবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিশাত ফারজানা। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ব্যাগের বিপরীতে মূল্য নেয়া বন্ধ না করলে উপযুক্ত আদালত ও কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করেছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।
আজ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো ওই নোটিশে বলা হয়েছে, আমি সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা আড়ং এর একজন নিয়মিত গ্রাহক। অনেক বৎসর যাবত আমি আড়ং হতে কেনাকাটা করে আসছি এবং প্রত্যেক কেনাকাটায় তাদের নিজস্ব লোগো সম্বলিত কাগজের ব্যাগ পেতাম। পরিতাপের বিষয় এই যে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেনাকাটার পর মগবাজার আউটলেটে বিল পেমেন্ট করতে গিয়ে জানা যায় প্রোডাক্টের সাথে কোন ধরনের ব্যাগ দেয়া হচ্ছে না। কারন হিসেবে জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর ২০২৫ হতে আড়ং শপিং এর সাথে ব্যাগ দেয়া হয় না। অর্থাৎ কেনাকাটা করলে পূর্বে কাগজের যে ব্যাগ ফ্রিতে পাওয়া যেত সেই কাগজের ব্যাগ গুলোই এখন টাকা দিয়ে কিনতে হবে।
এই নোটিশে বলা হয়েছে যে, বিল পেমেন্ট বুথে “আপনার প্রিয় আড়ং ব্যাগ এখন আরও অর্থবহ” এরুপ ভাবে একটি লিফলেট দিয়ে গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে আড়ং শপিং ব্যাগের উপর সীমিত চার্জ প্রযোজ্য এবং ব্যাগ বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের পুরোটাই ব্যয় করা হবে স্থানীয় গাছ লাগানোর প্রকল্পে। সবুজ এবং টেকসই উন্নয়ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বিজ্ঞাপন সম্বলিত এরূপ হীন মানসিকতার বিজ্ঞাপন আড়ংয়ের মত আর্ন্তজাতিক মানের প্রতিষ্ঠান থেকে কোনভাবেই কাম্য নয়।সবুজায়নের এরূপ উদ্যেগকে বাংলাদেশের মানুষ সাধুবাদ জানায় তবে সেটা Corporate Social Responsibility (CSR) ফান্ড হতে অর্থাৎ আড়ং পন্য বিক্রয়ের লাভ থেকে করলে আড়ং প্রশংসিত হবে এবং অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও এসব বিষয়ে সচেতন হবে। এরূপ নিম্নমানের কাগজের শপিং ব্যাগ গ্রাহকদের কাছ থেকে মূল্য নিয়ে তা দিয়ে পরিবেশ রক্ষার কথা বলা একধরনের চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক আদায় এবং অসাধু ব্যবসায়িক মানসিকতার পরিচয় বহন করে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, আমরা বাংলাদেশের মানুষ সবাই অবগত আছি যে, আড়ং দেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর একটা। আড়ং য়ের দেয়া ব্যাগ যা বর্তমানে মূল্য বসিয়ে বিক্রি করছে সেই কাগজের মান অত্যন্ত নিম্ন মানের। ব্যগগুলো রিসাইকেল পেপার, অর্থাৎ এ কাগজ গুলো একবার ব্যবহৃত হওয়ার পর মেশিনের মাধ্যমে প্রসেসিং করা হয় এবং দ্বিতীয় বার ব্যবহার উপযোগী করা হয়। কিন্তু রিসাইকেল এই কাগজগুলো দিয়ে বানানো ব্যাগ কেনাকাটার পর বাসায় আসার পর পরই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরে। সুতরাং এ মানের কাগজের ব্যাগগুলো টেকসই না হওয়ার কারনে মূল্য দিয়ে আড়ং থেকে কিনতে হবে এ বিষয়টা সম্পূর্নভাবে অযৌক্তিক এবং বিশাল গ্রাহক গ্রুপের জন্য এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি। ব্যাগে মূল্যে সংযোজন করার পূর্বে আড়ং এর ব্যাগের আধুনিকতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটলে ক্রেতা বা ভোক্তা তা মূল্য দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতো কিন্তু আড়ং ব্যাগে রয়েছে আড়ং ব্র্যান্ডের লোগো। অর্থাৎ একজন ক্রেতা টাকা দিয়ে ব্যাগ কিনবে তা আবার আড়ংয়ের লোগো ব্যবহৃত হবে, সৃজনশীলতার কোন ছাপ না রেখে ক্রেতাকে এরূপভাবে একপ্রকার বাধ্য করা এবং প্রতিষ্ঠানের এরূপ প্রচারণা অনৈতিক। সম্প্রতি আড়ংয়ে Reusable Fabric Bags নামে এক ধরনের শপিং ব্যাগের প্রচারণা শুরু করেছে যা অতি চওড়া মূল্য দিয়ে কিনতে হয়। ব্যাগগুলোর সাইজ এমন মাপের যাতে শুধুমাত্র একটি পন্য নেয়া যাবে, অর্থাৎ কোন গ্রাহক যদি একের অধিক পন্য ক্রয় করে তার জন্য উচ্চমূল্য দিয়ে তাকে একের অধিক ব্যাগ ক্রয় করতে হবে। যা আমাদের মতো সাধারন আয়ের দেশের মানুষদের জন্য এক ধরনের চাপ সৃষ্টি। এ ধরনের ব্যাগ সংস্করনের আগে আড়ং গ্রাহকদের মতামতের একটি জরিপ পরিচালনা করা যেতে পারতো। বর্তমানে আড়ংয়ের বিভিন্ন আউটলেটে এবং স্যোশাল মিডিয়াতে এ বিষয়ে গ্রাহকদের অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।
লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, অন্যান্য সুপার শপের যেসব ব্যাগ টাকা দিয়ে কিনতে হয় সেগুলোতে সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ রয়েছে অর্থাৎ তারা পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে জুট জাতীয় ব্যাগের ব্যবহার করছে এতে যেমন একদিকে পরিবেশ বান্ধব বিষয় পরিলক্ষিত হয় তেমনি ক্রেতারা সেসব ব্যাগ মূল্য দিয়ে কিনে অনেকবার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। এতে কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোগো সম্বলিত বিজ্ঞাপনের সুযোগ নেই।
আড়ং থেকে শপিং করার পর, পন্যের ভ্যাটের মান পরিশোধ করার পর, কাগজের শপিং ব্যাগ দাম দিয়ে কিনতে হলে তা আমাদের মতো মধ্য আয়ের দেশের মানুষদের জন্য এক ধরনের মানষিক অস্থিরতা। আমরা সবাই পরিবেশ বান্ধব সমাজ চাই এবং এরূপ বিষয়গুলোর পরিবর্তনের সাথে সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ দেখতে চাই। কিন্তু পরিবেশ রক্ষার নাম করে বড় বড় ব্র্যান্ডের কোম্পানীগুলো তাদের লোগো সম্বলিত পুরোনো ব্যাগ কোন ধরনের সৃজনশীলতার ছাপ না রেখে গ্রাহকদের মূল্য দিয়ে কেনার জন্য এক প্রকার বাধ্য করছে। এতে আসলে তাদের ব্র্যান্ডের প্রমোশন হচ্ছে আর গ্রাহকদের এক ধরনের কষ্টের অনুভূতির সৃষ্টি করছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে সবুজায়নের নাম করে অর্থ আদায়ের এরূপ কার্যক্রম সাধারণ জনগণের কাছে স্বচ্ছ নয়। আড়ং ব্র্যান্ড আমাদের সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে। পরিবারের অনেক ধরনের কেনাকাটা থেকে শুরু করে, উপহার দেয়ার জন্য আড়ং সবার কাছে একটি নির্ভর যোগ্য প্রতিষ্ঠান। আড়ং কাগজের এই শপিং ব্যাগ টেকসই নয় তাই কোনরূপ সৃজনশীলতার ছাপ না রেখে এধরনের ব্যাগ মূল্য দিয়ে কেনা বন্ধ করে, ফ্রিতে দিতে হবে। আড়ংয়ের এরূপ কার্যক্রম কখনোই পরিবেশ সচেতনতার বিষয় পরিলক্ষিত হয়না বরং এটা সরাসরি এক ধরনের অস্বচ্ছ ব্যাবসা এবং গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা। এ ধরনের সস্তা মানসিকতা, সেচ্ছাচারিতা আড়ংয়ের মতো ব্র্যান্ডের কাছে থেকে অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখ জনক। সুতরাং এই নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ব্যাগের বিপরীতে মূল্য নেয়া বন্ধ না করলে এহেন বেআইনী কার্মকান্ডের বিরূদ্ধে উপযুক্ত আদালত ও কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হবো।









