সারাদেশে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গুর প্রভাব। শহরাঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। দেখতে দেখতে মহামারীর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি সর্বকালে সর্বচ্চো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মূলত ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে একটি মশা-বাহিত ভাইরাস-ঘটিত রোগ। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে প্রথমবার ডেঙ্গু-তে আক্রান্ত রোগীর বিশেষ কোন উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায় না। শুধু অল্প কিছু ক্ষেত্রেই রোগের প্রভাব গভীর হয়।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো
- উচ্চ জ্বর
- মাথা ব্যথা
- চোখে ব্যথা
- বমিভাব
- ত্বকের বিভিন্ন স্থানে ফুসকুড়ি
- মাংসপেশিতে ব্যথা
ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণত উপসর্গ গুলো ৪ থেকে ১০ দিনে প্রকাশ পায়। এই উপসর্গ গুলো ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। উপসর্গগুলো হলো
- পেট ব্যথা
- ঘনঘন বমি হওয়া
- নাক থেকে রক্তপাত
- প্রস্রাবে এবং মলের সাথে রক্তপাত
- ক্লান্তি
- দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস
ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের সব ধরণের খাবার খাওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্য আরও ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তাই এই সময় রোগীদের সাধারণ ডায়েট পরিবর্তন করা হয়।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে সাধারণত যেসব খাবার প্রয়োজন:
- তরল খাবার খেতে দেয়া হয়
- ওরস্যালাইন
- ডাবের পানি
- ভিটামিন সি জাতীয় খাবার
- আয়রন জাতীয় খবার
তবে ডেঙ্গু সাধারণ মানুষের তুলনায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য বেশি ক্ষতিকর হয়ে থাকে। এই বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. তাহমিনা আহমেদ বলেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া গর্ভবতী মায়েদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মায়েদের দেহে হোমো ডাইনামিক পরিবর্তন বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। এমন অবস্থায় যদি অন্তঃসত্ত্বা নারী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় সেটা বাচ্চা এবং মা দু’জনের জন্যই ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ডেঙ্গুর লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, পেটে পানি জমা সাথে বুকে পানি জমা। এমন অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ওপর আমরা এক্সরে করতে পারি না কারণ সেটা গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর। সেই ক্ষেত্রে সাধারণত লক্ষণগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়।
ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের খাবার সম্পর্কে ডা. তাহমিনা আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু আক্রান হলে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, কিন্তু নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে হিমোগ্লোবিন নেমে গেলে তা মা এবং শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা যেন স্বাভাবিক থেকে এমন খাবার খেতে হবে। যেহেতু গর্ভস্থ শিশুর পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টির প্রয়োজন আছে, সেই ক্ষেত্রে কোনো খাবারে নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বেশি পরিমাণ তরল খাবার থেকে হবে যেন পানিশূন্যতা না দেখা দেয়।








