রিয়াল মাদ্রিদকে আশায় বসিয়ে রেখে শেষপর্যন্ত লস ব্লাঙ্কোস ডেরায় আসেননি কাইলিয়ান এমবাপে। ১২৫ মিলিয়নে ৩ বছরের চুক্তি বাড়িয়ে পিএসজিতেই থেকে গেছেন ফরাসি বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তার এমন কাণ্ডে বিব্রত রিয়াল। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা এই এমবাপেকে চায়নি স্প্যানিশ জায়ান্টরা, বলছেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।
এমবাপে প্রসঙ্গে বেশকিছু মন্তব্য করেছেন রিয়াল প্রেসিডেন্ট। জানিয়েছেন, এমবাপের সাথে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছিল। হুট করেই ফরাসি তারকার মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখতে পান তিনি। তার দাবি, ফ্রান্স আর কাতারের রাষ্ট্র প্রধান এবং প্যারিসের মেয়রের চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত বদলেছেন ২৩ বর্ষী ফরোয়ার্ড।
‘আমরা অপেক্ষা করেছি। এমবাপে সবসময় বলেছে, তার স্বপ্ন রিয়ালে আসা। কিন্তু ১৫ দিন আগে সব বদলে যায়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপে তার মধ্যে কিছু বাধ্যবাধকতা চলে আসে। তার ভেতর এই পরিবর্তন আমরা খেয়াল করেছিলাম। হুট করেই তখন এমন এক এমবাপেকে দেখলাম, যে আর আগের মতো নেই। যে এমবাপেকে আমি আনতে চেয়েছিলাম, এই এমবাপে সেরকম নয়। মনে হচ্ছিল, তার স্বপ্নই বদলে গেছে।’
‘ফ্রান্স ও কাতারের মতো দুটি দেশের প্রেসিডেন্ট ফোন করে তাকে চাপ দিয়েছেন। এমনকি প্যারিসের মেয়রও ফোন করেছিলেন। এরপর কাতার থেকে এত লোভনীয় প্রস্তাব। সে চাপে পড়েছে এবং সহজ পথটা বেছে নিয়েছে। আইনগত কারণে আমরা প্রাক-চুক্তি করতে পারিনি। যাই হোক, বদলে যাওয়া এমবাপেকে আমি চিনি না। বলা ভালো, এই এমবাপে আমাদের এমবাপে নয়।’
ছেলেকে রিয়ালে দেখতে চেয়েছিলেন এমবাপের মা, দাবি পেরেজের। ফরাসি তারকার জন্য রিয়ালের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়নি বলেও জানিয়ে রেখেছেন ক্লাবটির সভাপতি।
‘এমবাপের মা চাচ্ছিলেন ছেলে রিয়ালে আসুক, কারণ মা তো ছেলের ছোটবেলার স্বপ্নের কথা জানেন। ওর মায়ের সঙ্গে কথা হয়নি আমার। তবে শুনেছি তিনি বিব্রত।’
‘রিয়াল মাদ্রিদকে যে বোঝে এবং ক্লাবের শ্রেষ্ঠত্ব যারা অনুধাবন করে, এমন কোনো ফুটবলারের জন্য এই ক্লাবের দুয়ার কখনও বন্ধ নয়। আমি এমবাপেকে শুভ কামনা জানাই। সে দুর্দান্ত এক ফুটবলার, অনেক মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে। তবে ক্লাবের চেয়ে বড় কেউ নয়।’







