লক্ষ্মীপুরে ধীরে ধীরে কিছুটা উন্নত হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। শনিবার (৩১ আগস্ট) পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উদ-জামান বলেন, আগের থেকে উন্নত হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। তবে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার মত পরিস্থিতি এখনও হয়নি। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার পাশাপাশি বন্যা পরবর্তী সময়ে পেটের পীড়া, ডান্ডা-জ্বর ও চর্মরোগে ভুগছেন বন্যা দুর্গতরা।
তিনি আরও জানান, মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নোয়াখালী, ফেণী,কচুয়া এবং চাঁদপুর থেকে নেমে আসা পানি লক্ষ্মীপুরে ডাকাতিয়া ভুলুয়া নদী হয়ে ধেয়ে আসছে। এ পানিগুলো লক্ষ্মীপুর থেকে ওয়াপদাখাল, রহমতখালী খালসহ অন্যান্য কয়েকটি খালে এসে রহমতখালী ও হাজিমারা রেগুলেটার হয়ে মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। এতে পানি নামার চেয়ে উজান থেকে আসা পানির চাপ অনেক বেশী। তার ওপর
মাঝে মধ্যে বৃষ্টির পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আশাতীত পানি মেঘনায় নামতে পারছেনা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী বলা হলেও বেসরকারি মতে এ সংখ্যা ১২ লাখেরও বেশি। সরকারি মত, ২৬৫টি গ্রাম এবং ৪টি পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার। তবে এ পর্যন্ত ত্রাণ
সামগ্রীর মধ্যে সরকারিভাবে নগদ ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ৭৮৯ মেট্রিকটন চাল এবং ২৯ হাজার ৬৯৩ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে শুক্রবার বিকালে লক্ষ্মীপুর সফরে আসেন ত্রাণ ও পূনর্বাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম বীর প্রতীক।
তিনি সন্ধ্যায় স্থানীয় সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা কমান্ডার লে.কর্ণেল মাজেদুল হক রেজা, পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মেদ কবির, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ, স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা।








