পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ জনে। এছাড়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একটি ত্রাণবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পাঁচজন ক্রু নিহত হয়েছেন।
শনিবার ১৬ আগস্ট পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার খাইবার পাখতুনখোয়ারের বেশ কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু, ভবন এবং বিদ্যুৎ স্থাপনাসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাত এবং আকস্মিক বন্যার পর বুনের জেলায় ৩০০ স্কুলছাত্রসহ ২,০৭১ জন আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী টিম।
জেলা প্রশাসক কাশিফ কাইয়ুম জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকায় জেলাজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে পীর বাবা বাজার এবং এর আশেপাশের এলাকা ডুবে গেছে। একটি মসজিদ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক প্রাণী মারা গেছে।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, প্রদেশে সাতটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ৩৮টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার বেশিরভাগই সোয়াত জেলায়। এছাড়া বন্যায় তিনটি স্কুল ধ্বংস হয়েছে এবং তিনটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পিডিএমএ জানিয়েছে, প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ২১ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, উদ্ধার অভিযানের সময় এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এতে পাঁচজন ক্রু সদস্য মারা যান। তাদের স্মরণে খাইবার পাখতুনখোয়ার সরকার আজ শনিবার ১৬ আগস্ট একদিনের শোক ঘোষণা করেছে।









