দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে একটি বৃহৎ ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বুধবার বিকেলে এসব ব্যাংকের দায়িত্ব বুঝে নেবেন প্রশাসকরা। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বুধবার সকালে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে তারা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালিত হবে। বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বোর্ড ভেঙে দেওয়া ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে চারটি ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। আর একটি ছিল নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন। ওই সময় ব্যাংকগুলো থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে তাদের আর্থিক অবস্থা ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে ব্যাংক গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, একীভূত হয়ে গঠিত নতুন ইসলামী ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে আমানতকারীদের। এই পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা রয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ৭৬ শতাংশই খেলাপি ঋণ। ব্যাংকভেদে খেলাপির হার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে- ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ঋণ খেলাপি। সারাদেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে।
একীভূতকরণের মূল লক্ষ্য হলো আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রথম ধাপে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে প্রতিটি আমানতকারীকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। কারও জমা দুই লাখ টাকার কম হলে তিনি পুরো অর্থ তুলতে পারবেন। এর বেশি থাকলে প্রথম ধাপে দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে, বাকি অর্থ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হবে। মেয়াদী আমানতের ক্ষেত্রে আসল অর্থের সঙ্গে ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, আর সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের গ্রাহকেরা আসল টাকা পুরোপুরি ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে, যারা আজ বিকেলে দায়িত্ব নেবেন। এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক হচ্ছেন নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে সালাহ উদ্দিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে মোহাম্মদ আবুল হাসেম। প্রশাসকদের প্রথম দায়িত্ব হবে একীভূত প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহ করা। সেনাকল্যাণ ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কার্যালয় থেকে পুরো একীভূতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।









