চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সামনে প্রধান বাধা ছিল বৃষ্টি। দুবার বৃষ্টি হানা দেয়ায় খেলা নেমে এসেছে ৪৩ ওভারে। বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে আফগান বোলাদের তোপে টাইগাররা বিধ্বস্ত হয়েছে। বেঁধে দেয়া ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৬৯ রান। তবে বৃষ্টি আইনে আফগানদের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৩ ওভারে ১৬৪ রান।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতার পর তাদের অনুসরণ করে বাকিরাও। ব্যতিক্রম ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। তার ৬৯ বলে ৫১ রানের ইনিংসে স্বল্প পুঁজির সংগ্রহ পায় লাল-সবুজের দল।
স্বাগতিকরা ৩৪.৩ ওভার ব্যাট করার পর দ্বিতীয়বার বৃষ্টি হানা দেয়। ৭ উইকেটে ১৪৪ রান তোলার পর থামে খেলা। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে আবারও গড়ায় ম্যাচ।
বৃষ্টি থামার পর আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩৭.২ ওভারে মুজিবুর রহমানের শিকার হয়ে ফেরেন তাসকিন। ১৯ বলে ৭ রান করেন তিনি। ফিফটি করার পর ৪০.৫ ওভারে ফজলহক ফারুকির শিকার হয়ে ফেরেন হৃদয়। ৬৯ বলে ৩ চারে ৫১ রান করেন তিনি।
প্রথমবার বৃষ্টিতে ৫০ মিনিট বন্ধ ছিল খেলা। তখন কাটা হয়নি কোনো ওভার। বৃষ্টি-বিরতির পর আফগান স্পিনে চাপ বাড়ে টাইগারদের। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম সাজঘরে ফেরেন দ্রুত। আজমতউল্লাহ উমরজাইয়ের বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মোহাম্মদ নবি। পরে মুশফিককে ফেরান রশিদ খান।
সাকিব ১৪ ও মুশফিক করেন ১ রান। সুবিধা করতে পারেননি আফিফ হোসেনও। দলে ফেরা বাঁ হাতি ব্যাটার ৪ রান করে এলবিডব্লিউ হন রশিদের বলে। ফজলহক ফারুকির দ্বিতীয় শিকার হন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৩ বলে করেন মোটে ৫ রান। দেড়শর আগে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
সাদা বলের ক্রিকেটে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ সমীহ জাগানিয়া। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ স্পিনারদের সামলাতে চট্টগ্রামে বানানো হয়েছে সবুজ ঘাসের উইকেট। তবুও স্পিনের বিপরীতে অস্বস্তি ছিল তামিম ইকবালের দলের।
স্পিনার মুজিব উর রহমানের বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ারে রহমত শাহর হাতে ধরা পড়েন লিটন। ক্রিজ ছাড়ার আগে টাইগার ওপেনার করেন ৩৫ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২৬ রান।
সেটির খানিক পর বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। স্পিন-অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ নবির প্রথম বলে হাঁটু গেড়ে অলস ভঙ্গিতে সুইপ খেলতে গিয়ে তিনি ৩০ গজের ভেতর অভিষিক্ত সালিমের তালুবন্দি হন। শান্ত করে যান ১৬ বলে ২ চারে ১২ রান।
আগে লিটন দাসের সঙ্গে ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর ফজলহক ফারুকির বলে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে ধরা পড়ে ফেরেন তামিম।
বাঁহাতি পেসারদের ভেতরে আসা বলে তামিম ইকবালের দুর্বলতা আগে থেকেই। গতবছর দুদলের লড়াইয়ে সেটি দৃশ্যমান করে তোলেন ফারুকি। আফগানিস্তানের বাঁহাতি পেসার এবারও শিকারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তামিমের জন্য। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অফস্টাম্পের বাইরে করা সাধারণ এক ডেলিভারিতে টাইগার অধিনায়কে ফেরান আফগান পেসার।
জায়গায় দাঁড়িয়ে কাট করতে গিয়েছিলেন তামিম। একটু ভেতরে আসা বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। ২১ বলে দুটি চারে আনলাকি থার্টিনে ফেরেন তামিম। বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৩০ রান।







