ফুটবল

কোন সমীকরণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে তৃতীয় হওয়া দলকে?

বিশ্বকাপ ফাইনাল ট্রফি, ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রস্তুত।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ফিফা বিশ্বকাপ

চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব শেষ হয়েছে সকালে, বিরতি নেই, আসছে রাতেই গড়াবে রাউন্ড অব বত্রিশ। নকআউটের টিকিট কেটেছে ৩২ দল, যেখানে ১২টি করে গ্রুপসেরা ও রানার্সআপ দলের সঙ্গী হয়েছে সেরা ৮টি তৃতীয় হওয়া দেশ। যেখানে দেখা যাচ্ছে, কোন গ্রুপে শীর্ষে থাকা দল পাচ্ছে অন্য গ্রুপের রানার্সআপকে; আবার কোন গ্রুপসেরা পাচ্ছে অন্য গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দেশকে। কিন্তু কেন?

প্রথমে দেখে নেয়া যাক কয়টি টেবিল টপার অন্য গ্রুপে তৃতীয় সেরা দলের বিপক্ষে নকআউটে খেলবে, এবং কয়টি দ্বিতীয় হয়ে আসা দলের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা। ১২ গ্রুপ থেকে মিলেছে ১২টি শীর্ষ দল, কিন্তু তৃতীয় স্থান থেকে এসেছে কেবল ৮টি দেশ। সেক্ষেত্রে ৪টি শীর্ষ দলকে খেলতে হবে অন্য গ্রুপের দুইয়ে থাকা দলের বিপক্ষে। আর বাকি ৮টি রানার্সআপ দলের প্রতিপক্ষ কোন রানার্সআপ দেশই।

এটির অন্যতম কারণ হল, একই গ্রুপ থেকে উঠে আসা দুটি দলের যেন ফাইনালের আগে আবারও দেখা না হয়। গাণিতিক হিসাব ‘অ্যানেক্স সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী নকআউটের ম্যাচগুলো নির্ধারণ করা হয়। অ্যানেক্স সি অনুসারে বিশ্বকাপে ৩২ দলের রাউন্ডের ম্যাচগুলোর জন্য ৪৯৫টি সম্ভাব্য বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে রোডম্যাপ এবং একটি ব্র্যাকেট টেবিল গঠন করা হয়। ব্র্যাকেটের সংঘাত এড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট রোডম্যাপ টেবিলটি তৈরি করা থাকে। ১২টি গ্রুপ থেকে যেকোনো ৮টি গ্রুপ কতভাবে নির্বাচিত হতে পারে, সেটির গাণিতিক একটি হিসাব করেই ম্যাচগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ৪৯৫টি বিন্যাস বিবেচিত হয় গ্রুপের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে। যেমন- গ্রুপ এ, বি, সি, ডি, ই, এফ, জি, এবং এইচ এর তৃতীয় দলগুলো কোয়ালিফাই করলে, সেটি একটি বিন্যাস। আবার যদি এইচ এর বদলে গ্রুপ আই কোয়ালিফাই করে, তাহলে এ, বি, সি, ডি, ই, এফ, জি, আই হবে দ্বিতীয় বিন্যাস। এভাবে মোট ৪৯৫টি আলাদা গ্রুপ বিন্যাস তৈরি হয়।

এছাড়াও আছে ম্যাচ নির্ধারণের ছক, ফিফা তাদের অ্যানেক্স সি দ্বারা একটি বিশাল টেবিল তৈরি করেছে। সেখানে এই ৪৯৫টি সম্ভাবনার প্রতিটির জন্য আলাদা সূচি নির্ধারণ করা আছে। মূল উদ্দেশ্য, গ্রুপপর্ব শেষ হওয়া মাত্রই যেন জানা যায় কোন দল কার মুখোমুখি হবে, এবং কোন তৃতীয় স্থান অধিকারী দল যেন নিজের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি না হয়।

১২ গ্রুপের মধ্য থেকে মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, কলম্বিয়া, ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে লড়তে চলেছে অন্য গ্রুপের তৃতীয় হয়ে আসা দেশের বিপক্ষে। সেই তৃতীয়তে রয়েছে ইকুয়েডর, আলজেরিয়া, বসনিয়া, প্যারাগুয়ে, সেনেগাল, সুইডেন, ঘানা এবং কঙ্গো। এই বিন্যাসের হিসেবেই কোন গ্রুপের রানার্সআপ দলও অন্য গ্রুপের সেরার পরিবর্তে রানার্সআপ দলটির বিপক্ষে লড়াছে।

বিষয়:গ্রুপপর্বনকআউটফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোলিড স্পোর্টসশেষ বত্রিশ
প্রতিবেদক

জুনায়েদ সহল

Apprentice NewsRoom Editor Online

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…