দুই ম্যাচ আন্তর্জাতিক ফুটবল সিরিজের প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিকাল ৪টায় খেলাটি মাঠে গড়াবে।
টি-স্পোর্টসের ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। খেলার চলতি ধারাবিবরণী প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে লাল-সবুজের দলের চেয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে সিঙ্গাপুর। অতিথি দল র্যাঙ্কিংয়ের ১৩০তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ১৪২ নম্বরে অবস্থান করছে। তবুও ঘরের মাঠে কোচ সাইফুল বারী টিটু ও অধিনায়ক সাবিনা খাতুন দুটি ম্যাচে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে টিটু বলেছিলেন, ‘এশিয়ান গেমস থেকে ফেরার পর লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আমাদের খুব ভালো প্রস্তুতি ছিল। দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ওই ম্যাচটা খেলতে পারিনি। ওটা খেলতে পারলে আমাদের অনেক কিছু পাওয়া হতো।
দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতি সম্পর্কে সাবিনার ভাষ্য, ‘আমাদের তো নিয়মিত বিরতিতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলার সম্ভাবনা কম থাকে। সেই হিসেবে আমরা এই ধরনের ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। প্রতি সপ্তাহে আমি ছয় দিনের ট্রেনিং করেছি, কিন্তু অনুশীলনের বিষয়টি ম্যাচের মাধ্যমে বোঝা যায়।’
২০১৭ সালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সাবিনাদের একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। ছয় বছর আগে ৩-০ গোলে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার ভিন্ন কিছু হবে বলেই বিশ্বাস করেন বাঘিনীদের অধিনায়ক।
আগের চেয়ে আমাদের বর্তমান দল অনেক ভারসাম্যপূর্ণ। টেকনিক্যাল, টেকটিক্যাল ও ফিজিক্যাল সবদিকেই আমাদের উন্নতি হয়েছে। আশা করি দর্শকেরা মাঠে আসবেন এবং দুটি চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ দেখবেন।
আমরা গোল করলে দর্শকরাই সবচেয়ে বেশি খুশি হন। দেশের ফুটবলের মান যেন রাখতে পারি, উন্নতির ধারাবাহিকতা রাখতে পারি, সেই চেষ্টাই করব। দেশের মাটিতে খেলা, অবশ্যই জয়ের লক্ষ্য থাকবে।’
সহ-অধিনায়ক মারিয়া মান্দাও একই সুরে বলেন, ‘দেশের মাটিতে খেলার সুযোগ পেয়েছি, তাই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলব। এতদিন যে প্রস্তুতি নিয়েছি, সেটা আমরা ম্যাচ থেকে বুঝতে পারব। কোথায় উন্নতি করতে হবে সেটা দেখে নিতে পারব এসব ম্যাচে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে চেষ্টা করব ভালো খেলার, লক্ষ্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচগুলোর জন্য এবার কোনো টিকিটের ব্যবস্থা রাখেনি বাফুফে। দর্শকদের জন্য গ্যালারিতে প্রবেশ উন্মুক্ত রাখা হবে।
ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানি সরকার পায়ের চোটের কারণে ২৩ জনের স্কোয়াডে জায়গা পাননি। পায়ের মেটাটারসেলের চোটে অনেকদিন ধরেই তিনি ভুগছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসেও ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলতে গিয়েই সমস্যা আরও বেড়েছে। বর্তমানে তিনি বাফুফের ক্যাম্পে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
দলের অন্যতম সেরা ফুটবলারের ইনজুরি প্রসঙ্গে কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেছিলেন, ‘কৃষ্ণা দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে ওর ভালোর জন্যই বিশ্রাম প্রয়োজন। চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন। আমরা পুরো ফিট অবস্থায় কৃষ্ণাকে চাই। ও পুরো সুস্থ হয়েই ফিরুক।







