ফেনীতে বন্যার স্থায়ী সমাধানে শিগগির মুহুরী-কুহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ নির্মাণ ও একটি সরকারি বিশ্বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন এমপি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।
মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সমৃদ্ধ ও স্মার্ট ফেনী বিনির্মাণের লক্ষ্যে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকাস্থ ফেনীর গুণীজন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এ সভার আয়োজন করেন আলাউদ্দিন নাসিম। সভায় সমৃদ্ধ ফেনী গড়তে আলোচকরা বিভিন্ন দিকনির্দেশামূলক পরামর্শ দেন।
প্রতিবছরই বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরাম বন্যা কবলিত হয়। স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আলাউদ্দিন নাসিম বলেন, মহুরী-কুহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের জন্য সমীক্ষা শেষ হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী। এরপর দ্রুত বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হবে।
কর্মসংস্থানের বিষয়ে আলাউদ্দিন নাসিম বলেন, তরুণ-যুবকরা যেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ের পথ সুগম করতে পারেন, সেজন্য ব্যক্তিগতভাবে ফেনীর ছয়টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিষয়টি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলককে জানালে তিনি বলেছেন, এই ট্রেনিং সেন্টার তিনি সরকারিভাবে তৈরি করে দেবেন।আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসেবে আমার উপজেলায় শুরু হবে। এর সাফল্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ফেনীর অন্যান্য উপজেলাসহ সারাদেশে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর ফলে এই সেক্টরে একটা পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা হবে।
শিক্ষা ও স্বস্থ্যসেবার উন্নয়নে আলোচকরা ফেনীতে একটি সরকারি বিশ্বিবিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে আলাউদ্দিন নাসিম বলেন, আমিও চাই ফেনীতে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিক্যাল কলেজ হোক। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে আমি দুটি চিন্তাভাবনা করেছি। এর মধ্যে একটি ফেনীর পরিত্যক্ত দোস্ত টেক্সটাইল মিল রয়েছে, এটা যেন হাতছাড়া না হয়, এজন্য দরখাস্ত দিয়ে রেখেছি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করেছি। তিনিও আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তাই আশা করছি, এখানে অথবা অন্যত্র আমার বর্তমান মেয়াদে ফেনীতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বাস্তবায়ন হবে। আর প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্বস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বিদ্যমান মেডিক্যাল কলেজগুলোর চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও শিক্ষক সংকটের কথা তুলে ধরেন। এমতাবস্থায় সহসায় মেডিক্যাল স্থাপন সম্ভব নয়, তবে নিকট ভবিষ্যতে এটি বাস্তবায়ন হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, দৈনিক সমকালের চিফ রিপোর্টার লোটন ইকরাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের চিফ রিপোর্টার ফায়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, বিবিসির সাংবাদিক আকবর হোসেন, বাসসের শিফট ইনচার্জ তানভীর আলাদিন, দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক ইকবাল আহমেদ ও জ্যেষ্ঠ প্রুফ রিডার শাখাওয়াত হোসেন, দৈনিক আমাদের সময়ের সহ-সম্পাদক এস এম নূরুন নবী, বাংলাভিশনের রিপোর্টার কেফায়েত শাকিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু, স্টার লাইন গ্রুপের পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক অভিনেত্রী সমী কায়সার, অভিনেত্রী লাকী ইনাম, ব্যাংকার জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পাপ্পু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









