‘মানুষ তার খেলা সম্পর্কে গত ১২ মাস ধরে একটি কথা বলছে। সেটি হল রজার, রাফা ও আমার সংমিশ্রণ তার ভেতর বিদ্যমান। আমি কথাটির সঙ্গে একমত। আমার মতে, তিনি মূলত তিনজন বিশ্বসেরার গুণাবলী পেয়েছেন।’
উইম্বলডনের শিরোপা জিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম অর্জন করা কার্লোস আলকারাজকে প্রশংসায় ভাসিয়ে এমন মন্তব্যই করেছেন নোভাক জোকোভিচ।
টেনিস ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪তম গ্র্যান্ড স্লাম জোকোভিচ জিতবেন, এমনই ভাবা হয়েছিল। উইম্বলডনের ফাইনালেও ফেভারিট ছিলেন। সবকিছু ছাপিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েন আলকারাজ। ফাইনালে হারটা ‘হজম’ না হলেও প্রতিপক্ষের গুণকীর্তনে কার্পণ্য করেননি সার্বিয়ান মহাতারকা।
‘তিনি মানসিকভাবে অনেক স্থির এবং ২০ বর্ষী হয়েও সত্যিকারের পরিপক্বতা তার মাঝে আছে। ব্যাপারটা বেশ আকর্ষণীয়। স্প্যানিশ ষাঁড়ের মতো তার প্রতিযোগিতায় লড়াকু মনোভাব এবং অবিশ্বাস্য রকমের প্রতিরোধের মানসিকতা রয়েছে, যা রাফার ভেতর আমরা অনেক বছর ধরে দেখেছি।’
২০ বর্ষী আলকারাজ তৃতীয় কম বয়সী হিসেবে উইম্বলডনের শিরোপা জিতলেন। গতবছর ইউএস ওপেন জিতে প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের স্বাদ নিয়েছিলেন। অনবদ্য সেই সাফল্যে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ছেলেদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার রেকর্ডও গড়েন।
স্পেনিয়ার্ডের খেলার ধরণ নিয়ে জোকোভিচের মূল্যায়ন, ‘আমি মনে করি তার কিছু চমৎকার স্লাইডিং ব্যাকহ্যান্ড আছে। আমার ব্যাকহ্যান্ডের সাথে তার কিছু মিল আছে। দুই হাতেই ব্যাকহ্যান্ড ও ডিফেন্সে মানিয়ে নিতে সক্ষম। এটা অনেক বছর ধরেই আমার ব্যক্তিগত শক্তি। তার মধ্যেও এটা আছে।’
‘সত্যি কথা বলতে আমি কখনো তার মতো খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলিনি। রজার এবং রাফার নিজস্ব শক্তি এবং দুর্বলতা রয়েছে। কার্লোস একজন পরিপূর্ণ খেলোয়াড়। তার আশ্চর্যজনকভাবে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা আছে। এটা তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের জন্য সব জায়গায় চাবিকাঠি হবে।’
জোকোভিচের ভূয়সী প্রশংসা করাকে অবশ্য পাগলামি বলেই মনে করছেন আলকারাজ। তবে ফাইনালের প্রতিপক্ষের মন্তব্যের সঙ্গে হয়েছেন একমত।
‘আমি নিজেকে সত্যিই একজন পরিপূর্ণ খেলোয়াড় মনে করি। আমার হাতে শট আছে, শারীরিক ও মানসিক শক্তি আছে। সম্ভবত তিনি ঠিক বলেছেন। যদিও আমি এসব নিয়ে ভাবতে চাই না। ভাবতে চাই যে আমি পরিপূর্ণ কার্লোস আলকারাজ। সম্ভবত প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মতো আমার কিছু দারুণ দক্ষতা আছে, এটা ধরা যেতে পারে।’







