বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরেছে। প্রথম বারের মতো এশিয়ান কাপ ফুটবলের মূল পর্বে খেলবে সাউথ এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা। মিয়ানমার থেকে ইতিহাস গড়ে দেশে ফেরার দিনই রোববার গভীর রাতে মেয়েদের সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল বাফুফে। সেখানে ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মিয়ানমার ম্যাচে জোড়া গোল করা ঋতুপর্ণা ভাসলেন ফারুকীর প্রশংসায়।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আয়োজিত এই মধ্যরাতের সংবর্ধনা কেবল এক উদযাপন ছিল না- এটি ছিল একটি বার্তা, একটি অঙ্গীকার। বিজয়ী নারী ফুটবলাররা সাউথ এশিয়াকে জয় করে এখন এশিয়ান মঞ্চে, এক সময় বিশ্বের বুকেও অন্যতম শক্তি হওয়ার অঙ্গীকার তাদের।
সামনের পথচলায় মেয়েদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে ফারুকী বলেছেন, ‘আপনারা সবাই দুর্দান্ত, আমি আপনাদের খেলা দেখেছি। কিছু দিন আগে মিয়ানমারের সঙ্গে জয়ের পর আমি লিখেছিলাম, এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে পছন্দের বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদ ঋতুপর্ণা চাকমা। সে একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। আজ এখানে এসে ঋতুর কথা শুনে মনে হলো, আমি এটা পরিবর্তন করতে চাই। এই মুহূর্তে তিনি শুধু আমার পছন্দের বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদই নন, তিনি এই এখন আমার ফেভারিট স্পোর্টস পার্সোনালিটি। আপনি যেভাবে বলেছেন, বাংলাদেশের মেয়েরা জানে কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৌড়াতে হয়, এটা অ্যামেজিং।’
হাতিরঝিলের এম্পিথিয়েটারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা চাকমা বলেছেন, ‘প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি দর্শকবৃন্দকে, এত কষ্ট করে মধ্যরাতে আমাদের স্বাগতম জানানোর জন্য। ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের সভাপতি তাবিথ আউয়াল স্যার এবং কিরণ ম্যাডামকে আমাদের সংবর্ধনা দেয়ার জন্য। বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাব আমাদের সভাপতি স্যারকে।’
‘আমাদের যেসব সুযোগ সুবিধা লাগে, তিনি আমাদের সেভাবেই সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন, ভবিষ্যতেও দিয়ে যাবেন। আজকে আমরা এ পর্যায়ে এসেছি তা ছিল আমাদের দলগত প্রচেষ্টার ফল। ফুটবল কোনো ব্যক্তিগত খেলা না। আমরা বাংলাদেশের মেয়েরা জানি কিভাবে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়।’
নারী ফুটবলারদের উপর বিশ্বাস রাখতে বলে ঋতুপর্ণা বলেছেন, ‘আপনারা আমাদের উপর বিশ্বাস রাখবেন, আমরা আপনাদের নিরাশ করব না। আমরা শুধু এশিয়ায় নয়, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চাই।’
২০২৬ সালের এশিয়ান কাপে খেলবে মোট ১২টি দল। এর মধ্যে রয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াসহ চীন, জাপান, সাউথ কোরিয়ার মতো ফুটবল পরাশক্তি। এই টুর্নামেন্টটি একইসঙ্গে ২০২৭ ফিফা নারী বিশ্বকাপ কাপ এবং ২০২৮ অলিম্পিক গেমসের বাছাইপর্ব হিসেবেও বিবেচিত হবে। শীর্ষ ৬টি দল সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে, শীর্ষ ৮টি দল অলিম্পিকে জায়গা পাবে, সপ্তম ও অষ্টম দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের মাধ্যমে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের দ্বিতীয় সুযোগ পাবে।









