ঢাকার মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফারুক আহমেদ। তিনি এ খাতে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রকৌশলী।
ফারুক আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির প্রথম এমডি, যিনি প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে থেকে এ পদে এলেন।
গতকাল বুধবার ফারুক আহমেদ তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ডিএমটিসিএলে এমডি নিয়োগে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তি দেয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। এই পদে নিয়োগ পেতে দেশি-বিদেশি ৭৬ জন আবেদন করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সাতজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করে। তা থেকে ফারুক আহমেদকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
এরআগে আওয়ামী লীগ সরকার আমলাদের সুবিধা জন্য এমডি নিয়োগের মূল শর্ত পরিবর্তন করে। তখন যোগ্যতার শর্ত হিসেবে ‘যোগাযোগ খাতের সাবেক সচিব’ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এর ফলে ২০১৬ সালের অক্টোবরে সদ্যবিদায়ী সড়ক পরিবহন সচিব এম এ এন ছিদ্দিক ডিএমটিসিএলের এমডি হিসেবে নিয়োগ পান এবং গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে অতিরিক্ত সচিব আবদুর রউফকে দায়িত্ব দেয় এবং স্থায়ী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
আজ বৃহস্পতিবার মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এমডি নিয়োগের জন্য নাম বাছাইয়ের কমিটি নিশ্চিত হয়েছে যে মেট্রোরেল নির্মাণ, পরিচালনা, নকশা প্রণয়ন, ঠিকাদারের সঙ্গে দর–কষাকষিসহ নানা বিষয়ে ফারুক আহমেদের বিস্তর অভিজ্ঞতা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকং- এই পাঁচটি দেশে মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ফারুক আহমেদের। তিনি ৩৭ বছর দেশে-বিদেশে বড় অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনা ও পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্পে।
ডিএমটিসিএলের এমডি পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ফারুক আহমেদ ভারতের উত্তর প্রদেশে মালামাল পরিবহনের জন্য ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশেষায়িত মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তার আগে কলকাতা মেট্রোরেলের ইস্ট-ওয়েস্ট লাইনে কাজ করেছেন। ফারুক আহমেদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ১৯৮২ সালে পুরকৌশল বিষয়ে স্নাতক করেন। ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) সম্পন্ন করেন। এছাড়া আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, হংকং, নিউজিল্যান্ড ও ম্যাকাও থেকেও নানা পেশাগত দক্ষতাবিষয়ক বিভিন্ন ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি।









