জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তার গ্রেপ্তার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তর্ক বিতর্ক। এবার এ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন নির্মাতা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
ফারুকী স্পষ্ট করেই বলেন, “আমি সাধারণত চেষ্টা করি আমার মন্ত্রণালয়ের কাজের বাইরে কথা না বলতে। কিন্তু আমার তো একটা পরিচয় আছে—আমি এই ইন্ডাস্ট্রিরই মানুষ ছিলাম এবং দুইদিন পর সেখানেই ফিরে যাবো।”
নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর একটি ঘটনা হয়ে থাকলো। সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত জুলাইয়ের প্রকৃত অপরাধীদের বিচার করা। ঢালাও মামলার ক্ষেত্রে আমাদের পরিষ্কার অবস্থান—প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এবং সেই নীতিই অনুসরণ করা হচ্ছিল।”
তিনি আরও জানান, “ফারিয়ার বিরুদ্ধে মামলা অনেকদিন ধরেই ছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগ নেয়ার বিষয় আমার নজরে আসেনি।। অথচ এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময়ই গ্রেপ্তার করা হয়। হয়তো আওয়ামী লীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পর ওভার নারভাসনেস থেকেই হয়তোবা এইসব ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ”
ফারুকী বিষয়টি নিয়ে আরও উদাহরণ টেনে বলেন, “কয়েকদিন আগেই ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থের স্ত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ফারিয়া আইনি প্রতিকার পাবে। আর এই ধরনের ঢালাও মামলাগুলোকে আমরা ভবিষ্যতে আরো সংবেদনশীলভাবে হ্যান্ডেল করতে পারবো। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের প্রধান কাজ হলো জুলাইয়ের প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা।”
রবিবার নুসরাত ফারিয়াকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। নায়িকার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ওই মামলায় তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আসামি করা হয়। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।









