ধুমধাম আয়োজনে জাজ মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে কয়েক বছর আগে বড়পর্দায় অভিষেক হয়েছিল ফারিন খানের। জাজের ‘ধ্যাততেরিকি’ ছবির নায়িকা ছিলেন তিনি, তখন দশম শ্রেণীতে পড়তেন ফারিন!
ছবি মুক্তির পর তিনি বুঝতে পারলেন নিজের অভিনয়ে দুর্বলতা আছে। এরপর বিরতি নেন। অনুধাবন করেন পর্দায় অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করতে হলে তাকে অভিনয় শিখতে হবে, নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। এ কারণে সিনেমা ছেড়ে নাটকে অভিনয় শুরু করেছেন ফারিন খান। গত দেড়মাস যাবত তিনি নিয়মিত ছোটপর্দায় কাজ করছেন। ইতোমধ্যে সাতটি নাটক করেছেন!
চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ফারিন বলেন, গতবছর ‘প্ল্যানার’ নামে একটি সিনেমার শুটিং করেছি। এ বছর চরকিতে আমার একটি কাজ মুক্তি পেয়েছে। আসলে নাটকে ভিন্ন ভিন্ন গল্প পাচ্ছি, নতুন নতুন চরিত্র করতে পারছি। এতে করে অভিনয়টা ঠিকভাবে শিখতে পারছি। সামনে যদি আবার সুযোগ আসে তবে সিনেমা হয়তো করবো। দুদিন আগেও একটি সিনেমার অফার পেয়েছি। কিন্তু আমি মনে করি এখন সিনেমার জন্য উপযুক্ত নই।
অভিনয় শিল্পীদের ‘আল্টিমেট গোল’ থাকে বড়পর্দায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কিন্তু উল্টো পথে কেন হাঁটলেন ফারিন? উত্তরে তিনি যেমনটা বললেন, নাটকে কাজ করে দেখলাম সিনেমার চেয়ে এখানে চ্যালেঞ্জ বেশি। কারণ এই মাধ্যমে প্রচুর আর্টিস্ট কাজ করেন। সবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তবে ভালো লাগছে বেশি কারণ আমি শিখতে পারছি এবং মনে হচ্ছে যে এই মাধ্যমে আমি নিজেকে প্রমাণ করতে পারবো। তবে পথ চলতে কিছুটা সময় লাগবে।
কাজল আরেফিন অমির ‘ফিমেল ৩’, মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘প্রাণ দিতে চাই’, মোহন আহমেদের ‘প্রেম মহব্বত’সহ সাতটি নাটক করেছেন ফারিন। তিনি জানান, সহশিল্পী হিসেবে তৌসিফ মাহবুব, আরশ খানদের পেয়েছেন। প্রত্যেক নির্মাতা ও সহশিল্পীরা অভিনয় করতে সহযোগিতা ও সাহস যুগিয়েছেন।
নাটকে অভিনয়ের শুরুতে ফারিন সবচেয়ে সাড়া পেয়েছেন ‘ফিমেল ৩’-এ। বললেন, ফিমেলের প্রতি পর্ব আমার বাসার সদস্যরাও পছন্দ করেন। যখন আমার কাছে কাজটির কল আসে আমি রাজি হয়ে যাই। কোনো সংলাপ ছাড়া জাস্ট একবার হেঁটে গেলাম এবং কয়েকবার আমার ফটো দেখালো এতে করে এক রাতে পেইজে ৫০ হাজার ফলোয়ার্স বেড়েছে! এটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে, এজন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। নাটকে নিয়মিত করার জন্য এই কাজটি আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করেছে। আমার মনে হয়েছে বসে না থেকে আমার আসলে নিয়মিত কাজ করা উচিত মানুষের সাধুবাদ নেয়া উচিত।
ফারিন বলেন, নাটকে শুরু করেছি এখানে মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যেতে চাই। ভালো গল্প এবং চরিত্র দিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে হাজির করে যাবো। আশা করবো, আগামীতেও নির্মাতা সহশিল্পী সবার সাপোর্ট পাবো। তাহলে দর্শকদের কাছে ভালো কাজ উপহার দিতে পারবো।








