মরক্কোর মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে নিহদের সংখ্যা বেড়ে ৬৩২ এ গিয়ে ঠেকেছে। ভূমিকম্পটি ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। মারাত্মক এই ভূমিকম্পের ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মারাকেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-জাজিরাকে বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের তৃতীয় তলায় তার অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। এটি হঠাৎ এবং মারাত্মকভাবে কাঁপতে শুরু করে। আমি সেখান থেকে চলে গিয়েছিলাম এবং নিরাপদে ছিলাম। ঘরে শুধুমাত্র বই বা শিল্পের টুকরো তাক থেকে পড়েছিল।
ভূমিকম্পে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত পুরাতন মারাকাশ শহরের বাসিন্দা সাংবাদিক নুরদ্দীন বাজিন বলেন, ভূমিকম্পটি শহরের বাসিন্দাদের জন্য আকস্মিক বিপর্যয়। আমরা দুঃস্বপ্নে ভরা এক ভয়ঙ্কর রাত কাটিয়েছি। আমরা এই ধরনের দুর্যোগে অভ্যস্ত নই। মারাকাশ শহরটি পুরাতন হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের ভবনগুলো আগে থেকেই ধসে পড়ার প্রবণতায় ছিল। কিছু ভবন ভঙ্গুর অবস্থার কারণে ভূমিকম্প ছাড়াই ভেঙে পড়তে পারে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী পাহাড়ি গ্রাম আস্নীর বাসিন্দা মনতাসির ইত্রি বলেন, তিনি যেই এলাকায় থাকেন তার আশেপাশে বেশিরভাগ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে এবং অন্যান্যরা বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করে তাদের উদ্ধারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে।
কেন্দ্রস্থলের আরও পশ্চিমে তারউদান্তের কাছাকাছি এলাকার শিক্ষক হামিদ আফকার বলেন, তিনি তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর আফটারশক হয়েছিল। পৃথিবীটি প্রায় ২০ সেকেন্ডের জন্য কেঁপে উঠল। আমি দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নেমে আসার সাথে সাথে দরজা নিজেই খুলে গেল এবং পরে নিজেই বন্ধ হয়ে গেল।
আল জাজিরার সাংবাদিক আবদেল মুনিম এল আরমানি বলেন, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এবং ধ্বংসের পরিমাণ এখনও পুরোপুরি দেখা যায়নি। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এক থেকে আট কোটি মানুষ বাস করে এবং তাদের বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে। তারা সাধারণত ইকোলজিক্যাল ট্যুরিজম থেকে অর্থ উপার্জন করে।







