নারায়ণগঞ্জের তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে ভুক্তভোগী আল আদিয়াত সায়র (১৭)-এর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময়ে ভিকটিম গোপনে তাসলিমার আপত্তিকর ছবি ধারণ করে এবং পরে কয়েকজন বন্ধুর কাছে তা শেয়ার করে। পরে তাসলিমার সঙ্গে সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেনের নতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানার পর আরাফাত হোসেন তাসলিমাকে ধৈর্য ধরতে বলে এবং দেশে এসে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর সায়রকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়।
রাজধানীর টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকা থেকে এই হত্যা মামলার ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার ও হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন তাসলিমা আক্তার (১৮), সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেন (২২), মো. সাকিব খান (২২), নয়ন মিয়া (২২), নুরুজ্জামান শ্যামল (২০) ও রাকিব মিয়া (২২)। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ওয়ারী বিভাগ।
পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় ৩১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুপুরে ভুক্তভোগীর প্রেমিকা তাসলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাসলিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ও আরও তথ্য প্রদান করে। তার তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগ টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে আরও পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত হোসেন ২ নভেম্বর দেশে আসেন। পরদিন ৩ নভেম্বর তাসলিমা আক্তার ভুক্তভোগী আল আদিয়াত সায়রকে নিয়ে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখান থেকে তারা গাজীপুরের উলুখোলা এলাকায় গেলে হুজাইফা ও ইজি বাইক চালক রাকিব তাদের রিসিভ করে। রাত আনুমানিক আটটার দিকে ইজি বাইকে জিএমপি’র পূবাইল থানাধীন বিন্দান রোডে প্রবেশ করার পর রাকিব ও আরাফাত সায়রের গলা টিপে ধরে এবং শ্যামল, হুজাইফা, নয়ন ও রাজ— সায়রের হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশ ইজি বাইকে করে ঘোড়াশাল-টঙ্গী মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।
ডিবি আরও জানায়, বাদী মিজানুর রহমান আদালতে একটি নালিশী পিটিশন দাখিল করেন এবং আদালতের নির্দেশক্রমে কদমতলী থানায় মামলাটি হয়। পরে গত ২৬ নভেম্বর গোয়েন্দা (ওয়ারী) বিভাগ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।









