অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, গত ১৫ বছর অরাজকতা হয়েছে। ১৫ বছরের প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ বিষয় কর্মশালায় তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
আসিফ নজরুল বলেন, মামলার এজাহার সুন্দর করে লেখেন, তথ্য দিন। হুটহাট করে কাউকে জামিন দেবেন না, বিচার বিবেচনা করে দেবেন। আবার যিনি জামিনের যোগ্য, তাকে জামিন থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন জামিন নিয়ে বের হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে দেশে অরাজকতা, গুম ও খুন হয়েছে। প্রতিটা হত্যার বিচার হবে এ বার্তা দিতে হবে। তা না হলে এ পদে থাকার কোনো মানে হয় না।
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সব বিভাগ সঠিকভাবে কাজ করলে মবতন্ত্র কমে যাবে। সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
আমরা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরের বিষয়গুলো অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। পতিত ফ্যাসিস্টরা লাখ লাখ কোটি টাকা খরচ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে ডিসি যারা রয়েছেন আপনারা জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান। প্রসিকিউটের সঙ্গেও আপনাদের যোগাযোগ থাকে। এই চারটা প্রতিষ্ঠান যদি সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করে তাহলে বর্তমান চ্যালেঞ্জিংটা আরও সাকসেসফুল মোকাবিলা করতে পারবো। আমাদের এখানে গণহত্যা হয়েছে, সেটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। ১৫ বছর গুম হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, অরাজকতা হয়েছে, এগুলো বানানো কথা না। আপনারা প্রত্যেকে জানেন। নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করেন।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাইকে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য। দেশের মানুষকে মুক্তি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সব সেক্টরে সংস্কার দরকার। সব সেক্টরকে ধ্বংস করা হয়েছে। ন্যায়ভিত্তিক কাজ করতে হবে। গুমের ঘটনা যেন আর না ঘটে। বিচারবহির্ভূত হত্যা যেন আর না ঘটে। অপরাধীকে যেন আইনের আওতায় এনে বিচার করা যায়। মানবাধিকার করে পুলিশিং সম্ভব। যে আদালত ভিন্নমত দমনে জেলখানাকে ব্যবহার করে না, তেমন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।









