‘আমার বিরুদ্ধে যে মামলাটি করা হয়েছে, সেটার খুব একটা ভিত্তি নেই। ভিত স্ট্রং না দেখেই কিন্তু আমাকে আজকে জামিন দেয়া হয়েছে। আমার আইনের উপর আস্থা আছে, আশা করছি এসব কারণে শিল্পীরা আর হয়রানির শিকার হবে না। শুধু এখন নয়, ভবিষ্যতেও।’
বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।
আগাম জামিন পাওয়ার পর এদিন আদালতে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মিথিলা। কোন বিশ্বাসে ইভ্যালিতে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি, এমন প্রশ্নে মিথিলা জানান, ‘আমি যখন ইভ্যালিতে যুক্ত হয়েছি তার আগেই সেই প্রতিষ্ঠানের ৪০ লাখ গ্রাহক ছিলো। সেই মানুষগুলো যেভাবে আস্থা রেখেছে, আমিওতো সেভাবেই আস্থা রেখেছি।’
এসময় হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান মিথিলা। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই অসম্ভব হয়রানির ভেতর দিয়ে গিয়ে আমি যেটা শিখলাম, আমাদের আর্টিস্টদের সাপোর্ট করার জন্য সেভাবে আইনজীবী নেই। মিডিয়ার এসব ইস্যু ডিল করার জন্য প্রপার এজেন্সি নেই, আমাদের ম্যানেজার নেই। এগুলো আমাদের ইনডিভ্যিজুয়ালি ডিল করতে হয়। এগুলোর জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমি একশোর উপর ব্র্যান্ড এনডোর্স করেছি, যেগুলো অনেক বড় বড় ব্র্যান্ড বাংলাদেশের। এই ধরনের একটা হয়রানিমূলক পরিস্থিতির জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না।’
ইভ্যালির সাথে যুক্ত হওয়া তবে কি ভুল ছিলো? সাংবাদিকদের করা এমন প্রশ্নে মিথিলা বলেন, ‘এতো হয়রানি পরিস্থিতি মোকাবেলা করা আমি ডিজার্ভ করি না।’
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থিত জামিন চাইলে আদালত মিথিলা সহ অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। আদালতে শবনম ফারিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, জেসমিন সুলতানা। রাফিয়াত রশিদ মিথিলার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ ফারুক।
গেল ৪ ডিসেম্বর তাহসান খান, মিথিলা এবং শবনম ফারিয়া সহ নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। মামলার অন্যান্য আসামিরা হচ্ছেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল, তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, আকাশ, আরিফ, তাহের ও মো. আবু তাইশ কায়েস।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়া ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এবং তাদের বিভিন্ন প্রমোশনাল কথাবার্তার কারণে আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেন সাদ স্যাম রহমান। এসব তারকার কারণে মামলার বাদী প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছাদূত ছিলেন তাহসান। মিথিলা ছিলেন ইভ্যালির ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইলের শুভেচ্ছাদূত। আর শবনম ফারিয়া ছিলেন প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা।







