কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সফরে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) তারা দিনব্যাপী ক্যাম্প পরিদর্শনের পাশাপাশি দাতা সংস্থাগুলোর পরিচালিত কার্যক্রম দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা শোনেন।
মিয়ানমারে পরিবেশ তৈরি হয়নি তাই প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে এবং সহায়তা বাড়ানো চেষ্টা করা হচ্ছে বলে রোহিঙ্গাদের আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলটি।
সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেড়েছে বিদেশি প্রতিনিধি দলের আনাগোনা। গেল ১২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর এবার ক্যাম্পে এলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল।
ইইউর মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান। এরপর একে একে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন, শিশু শিক্ষা ও খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তাদের কাছে রোহিঙ্গারা নানা দাবি দাওয়া তুলে ধরেন।
উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এরশাদুল্লাহ বলেন, মিয়ানমার সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিলে আমরা চলে যাব। একই ক্যাম্পের বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, নিজের দেশ পেলে অন্য দেশে আছি, আমাদের এখানে ভালো লাগছে না। সব সময় নিজের দেশে চলে যেতে চাই। কিন্তু সেখানে আমাদের অধিকারগুলো তারা ফিরিয়ে দিচ্ছে না। অনেকটা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে রয়ে গেছি। তবে বাংলাদেশের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
প্রতিনিধি দলটি ডব্লিউএফপি পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে একদল রোহিঙ্গার সঙ্গে আলাপ করেন। এসময় রোহিঙ্গা নারীরা স্বদেশে ফেরার আকুতি জানাতে গিয়ে কান্না ভেঙ্গে পড়েন। আর প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গাদের জানায়, মিয়ানমারে পরিবেশ তৈরি হয়নি তাই প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আর খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে এবং সহায়তা বাড়ানো চেষ্টা করা হচ্ছে।
দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী ইইউ প্রতিনিধি দল একান্ত বৈঠক করেন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে। এর আগে প্রতিনিধি দলের প্রধান ইমন গিলমোরের সঙ্গে দেখা করে চিঠি দেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের।
তিনি বলেন, আমরা চাই নিরাপদ প্রত্যাবাস। সেজন্য মিয়ানমারের ওপারে পরিবেশ তৈরি করার কথা বলছি আমরা। আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তাদের হাতে চিঠি আকারে তুলে দিয়েছি।
প্রতিনিধি দলটি বিকেলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের অফিসের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক করেন। এসময় শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ কিভাবে রেখেছেন সেই বিষয়গুলো প্রতিনিধি দলের সামনে তুলে ধরেন।







