বাংলাদেশ জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট-এর উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় ঢাকার গুলশানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দূতাবাসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট-এর প্রতিনিধি দলের সভাপতি মুনির সাতৌরী, লুক্সেমবার্গ (ইপিপি) ইসাবেলা ভিয়েডার-লিমা, পোল্যান্ডের (ইসিআর) আরকাদিুস মুলারচিক, এস্তোনিয়ার (রিনিউ ইউরোপ) উর্মাস পায়েট, নেদারল্যাণ্ড এর (দ্য গ্রিন্স) কাতারিনাভিয়েইরাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিং এ নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আমাদের সাথে তাদের খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের যে অবস্থা সে বিষয়ে কথা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে কথা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা? কিভাবে হবে? এসব বিষয় তারা মূলত কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ৫৪ বছর পরে একটা পরিবর্তনের বিশেষ সুযোগ এখানে আসছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য সকলেই আন্তরিক এবং সচেতন। এই সরকার যে কমিটমেন্ট দিয়েছিল, তারা একটা সংস্কার করবে, বিচার দৃশ্যমান করবে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যেটাকে আমরা ফ্রি, ফেয়ার একটি ইলেকশন বলে মনে করি।
আপনারা জানেন সরকার একটি এনসিসি করেছিল। সেখানে আমরা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছি। এসব বিষয়ে বাংলাদেশে একটি ব্যাপক ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এবং দলগুলোর মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন একটা সমস্যা হল, আমরা যেসব বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করতে পেরেছি সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে-এটা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। আপনারা জানেন আমরা ৩১টি দল আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম। এর মধ্যে ২৬টি দল পিআর-এর পক্ষে ছিল যার মধ্যে ইসলামিস্ট, রাইটিস্ট এবং লেফটিস্ট দলসমূহ আছে। কিন্তু সেখানে একটি পার্থক্য ছিল এই- কোনো কোনো দল আবার হাউজে পিআর চাচ্ছে আর কিছু দল আবার ও লোয়ার দুইটিতে পিআর চাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা জামায়াতে ইসলামী উভয় কক্ষে পিআর চাচ্ছি। এ চাওয়ার পেছনে আমাদের দুটি যুক্তি হল বিগত ৫৪ বছরে ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আর বিগত ১৫ বছরে ৩টি নির্বাচনের কথা তো উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর যে কালচার, মেন্টালিটি, যে কৌশল বা অপকৌশল জোর করে কেন্দ্র দখল করে এমপি হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া। এই মাইন্ডসেটটাকে পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনে যাব না এটা আমরা বলিনি। আমরা মনে করি পিআর পদ্ধতিটাই উত্তম এবং সে দাবি করছি। আমরা যুক্তি দিচ্ছি, আমরা বুঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি আমাদের যুক্তি মানবে এবং সে ভিত্তিতেই আমরা নির্বাচনে যাবো।
আমরা আপার এবং লোয়ার উভয় কক্ষে পিআর চাচ্ছি। আর আলোচনার টেবিলে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আমরা আলোচনার টেবিলে যাওয়ার পক্ষে এবং আলোচনা করারও পক্ষে। তবে এর জন্য উদার মানসিকতা এবং নিরপেক্ষতা মানসিকতার প্রয়োজন।









