‘শুরুতে বিষণ্ণতা শেষে আনন্দ। এটাই ফুটবল। মুহূর্ত, অবর্ণনীয় মুহূর্ত। একটি সরাসরি শট দলকে লিড এনে দিতে পারত। আমি তা ঠিকঠাক করতে পারিনি।’
স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে পেনাল্টিতে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়া নিয়ে এভাবে অনুভূতি তুলে ধরলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বল জালে পাঠাতে না পারায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
ম্যাচজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মেতেছিল দুদল। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ৯০ মিনিট শেষ হয়ে যায় গোলশূন্য সমতায়। খেলা অতিরিক্ত সময় গড়ালে পর্তুগিজদের সামনে সুযোগ আসে।
১০৩ মিনিটে ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন ভনজা ড্রকুসিস। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পটকিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন ওব্লাক।
সেই মুহূর্তের বর্ণনায় পর্তুগিজ মহাতারকা বলেছেন, ‘ওব্লাক একটি ভালো সেভ করেছেন। আমাকে পেনাল্টি নিয়ে দেখতে হবে। আমি ভালো নাকি খারাপ শট নিয়েছিলাম, জানি না। তবে আমি সারাবছরে একবারও পেনাল্টি মিস করিনি। যখন আমার এটার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ওব্লাক সেটি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন।’
ডয়েচে ব্যাংক পার্কে অবশ্য পর্তুগালই হেসেছে শেষ হাসি। রোনালদো পেনাল্টি মিস, গোলশূন্য সমতায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুর্দান্ত ছিলেন গোলরক্ষক ডিয়েগো কস্তা। স্লোভেনিয়ার পরপর তিনটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ দেয়াল। তিনটি স্পটকিকের সবকটি নিশানাভেদে ৩-০ ব্যবধানে জিতে যায় পর্তুগাল।
টাইব্রেকারে অবশ্য ভুল করেননি রোনালদো। কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড বাঁ-দিক দিয়ে বল জালে জড়ান। সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের কাছে দুই হাত জোড় করে ক্ষমাও চান। স্পটকিক নিতে আসা ব্রুনো ফের্নান্দেস ও বের্নার্দো সিলভা কাজটা ঠিকঠাক করে পর্তুগালকে জয়োল্লাসে ভাসান।
দলের জয়টা প্রাপ্য ছিল দাবি সিআর সেভেনের, ‘আমাদের খেলায় আধিপত্য ছিল। স্লোভেনিয়া প্রায় পুরো খেলাটা রক্ষণে কাটিয়েছে। এটা খুবই কঠিন এবং পুরো দলকে অভিনন্দন জানাতে হবে। বিশেষ করে আমাদের গোলরক্ষক কস্তা খুব ভালো তিনটি সেভ করেছেন।’









