দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে চলমান তীব্র সংকট নিরসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।
বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। ফলে খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। এই বাস্তবতায় সরকারি পর্যায়ে আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবিলাই বিপিসির মূল লক্ষ্য।
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বাজারে বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই নানা জটিলতার কারণে নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না, যার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। তিনি বলেন, সরকার আপাতত শুধু আমদানির দায়িত্ব নেবে; সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণ বেসরকারি খাতেই থাকবে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বিপিসি আমদানি শুরু করলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন এবং বাজারের অস্থিরতা কমবে।
বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নায়। বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলপিজির জোগান বাড়বে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।









