ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন তারকা ব্রুস উইলিস। বিগত দুই বছর থেকে এই রোগে আক্রান্ত এই অভিনেতা।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন প্রচুর জনপ্রিয় সিনেমা। সম্প্রতি তার স্ত্রী এমা হেমিং একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন সব স্মৃতি ভুলে যাচ্ছেন ব্রুস।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে এমার লেখা নতুন বই ‘দ্য আনএক্সপেক্টেড জার্নি’ নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। বইটির মাধ্যমে তিনি ডিমেনশিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে ডাক্তার আমাকে যখন এই রোগের নাম বলে আমি এ সম্পর্কে একদম কিছুই জানিনা এমনকি উচ্চারণও করতে পারছিলাম না। আমি মোটেই বুঝতে পারিনি এটি কী, আমি সম্পূর্ণ আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিলাম।’ |
এমা হেমিং অভিনেতা ব্রুসের প্রসঙ্গে বলেন, ‘সে হয়তো অসুস্থ হয়েও পুরোপুরি বুঝতে পারছিল না যে, তার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ হচ্ছিল। এখন আমরা তার সঙ্গে ভিন্নভাবে কথা বলি। প্রতিদিন হয়তো সব ঠিক থাকে না, কিন্তু কিছু মুহূর্তে ব্রুস নিজেকে প্রকাশ করতে পারে।’
এমা আরও বলেন, ‘ডাক্তার দেখানোর আগে ব্রুস স্বাভাবিক ছিলেন না। সারাক্ষণ কথা বলা স্বভাবের মানুষটি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল! যখন পরিবারের সবাই মিলিত হতো, সে চুপচাপ থাকতো। যা তাঁর সাধারণ আচরণের সঙ্গে মিলছিল না। এটি দেখা সত্যিই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিষয় ছিল।’
মানুষ যেমন তার শৈশবে কথা বলতে পারে না। তেমনি ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া রোগের কারণে ব্রুস ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না। অভিনেতার স্ত্রী বলেন, ‘ব্রুস এখন শৈশবের স্মৃতিতে আছে। সে আমাদের মনে করতে পারে না কিন্তু তাঁর হাসি তো আছে। যদিও সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে, আমি কৃতজ্ঞ যে সে এখনও আমাদের মধ্যে আছে।’
ওয়াল্টার ব্রুস উইলিস (জন্ম ১৯ মার্চ, ১৯৫৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন অভিনেতা। তিনি খ্যাতি অর্জন করেন কমেডি-ড্রামা সিরিজ মুনলাইটিং (১৯৮৫–১৯৮৯)-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। তিনি একশরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ডাই হার্ড ফ্র্যাঞ্চাইজিতে (১৯৮৮–২০১৩) জন ম্যাকক্লেইনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একজন অ্যাকশন তারকা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
উইলিসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে দ্য লাস্ট বয় স্কাউট (১৯৯১), পাল্প ফিকশন (১৯৯৪), ১২ মাঙ্কিস (১৯৯৫), দ্য ফিফথ এলিমেন্ট (১৯৯৭), আর্মাগেডন (১৯৯৮), দ্য সিক্সথ সেন্স (১৯৯৯), আনব্রেকেবল, দ্য হোল নাইন ইয়ার্ডস (উভয়ই ২০০০), টিয়ার্স অব দ্য সান (২০০৩), সিন সিটি (২০০৫), দ্য এক্সপেন্ডেবলস, রেড (উভয়ই ২০১০), লুপার (২০১২), এবং গ্লাস (২০১৯)।
২০২২ সালে অ্যাফেজিয়া রোগের কারণে তিনি অভিনয় থেকে অবসর নেন এবং ২০২৩ সালে তার ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া ধরা পড়ে।









