সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগাম ঈদ পালন করছে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা।
যদিও অনুসারীদের দাবি মূলত বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা যাওয়ার ভিত্তিতে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে রোজা ও ঈদ উদযাপন করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। তিনি জানান, পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে, তার ওপর নির্ভর করে আমরা রোজা ও ঈদ পালন করি।

আগাম ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো, হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর; মতলব উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম।
স্থানীয়রা জানান, কুরআন ও হাদিসের আলোকে ১৯২৮ সাল থেকে প্রথম চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ইসলামের সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর আল্লামা মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী। মাওলানা ইছহাকের মৃত্যুর পর থেকে তার ৬ ছেলে এ মতবাদের প্রচার চালিয়ে আসছেন।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফতর উদযাপন করেছে কয়েকটি গ্রামের কিছু মুসল্লি। দেশের প্রচলিত নিয়মানুসারে এলাকায় একদিন আগেই ঈদ পালন করায় স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রোবরার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলার সহিহ হাদিস সম্প্রদায়ের মুসল্লিরা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ার ছাদে নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজে ইমামতি ও খুৎবা পাঠ করেন হাফেজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
ঈদের জামাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশুসহ ৩০-৪০ জন মুসুল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসুল্লিরা যথা নিয়মে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন। এভাবেই ১০ বছর ধরে এই গ্রামের ৮-১০ টি পরিবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছি।
দিনাজপুরেও সৌদি আরবের সঙ্গে সংগতি রেখে পাঁচশত পরিবারের ঈদ উদযাপন করছে আজ। জেলার ১৩টির মধ্যে ৬টি উপজেলায় ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হচ্ছে। রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে এ আগাম ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এই জামায়াতে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মহেশপুর গ্রামে অবস্থিত ফ্যামিলি কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠা পরিচালক ও নবাবগঞ্জ উপজেলার মোহাজেরপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক।
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করেছে টাঙ্গাইলের ৪০ পরিবারের সদস্যরা। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের লাউহাটি ইউনিয়নের শশীনাড়া গ্রামের ৪০টি পরিবার ২০১২ সাল থেকে সৌদির সাথে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছে।

এই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকাল ৮ টায় স্থানীয় মসজিদের মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন তারা। এই ঈদের নামাজে ওই ৪০টি পরিবারসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মুসল্লিরাও অংশ নিয়েছেন বলে জানায় ঈদ উদযাপনকারীরা।
বরিশাল নগরী থেকে শুরু করে জেলার ১০উপজেলার কয়েকটি স্থানে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে তারা এক অপরের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। বরিশাল নগরীর ৩টি এলাকাসহ জেলার ৪০টি গ্রামে আজ ঈদ পালন করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ভোলার ২০টি গ্রামে উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শরীয়তপুর জেলার সুরেশ্বর অনুসারী প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মুসল্লী ২০টি স্পটে সকাল ৯ টায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগি ইউনিয়ন এর ১ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চায়েত বাড়ির দরজায় প্রথম ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঈমামতি করেন মাওলানা রতন মিয়া। এ সময় অর্ধশতাধিক মুসল্লী ঈদের জামাতে অংশ নেয় ।
এ ছাড়া মুলাইপত্তন, চৌকিদার বাড়ির দরজায়, লালমোহন উপজেলাসহ প্রায় টি গ্রামে আজ আগাম ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে দেশে এবং বিশ্ব মুসলিমের শান্তি কামনায় মোনাজাত করেন মুসল্লিগণ।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে আজ রোববার (৩০ মার্চ) শেরপুর জেলার অন্তত ২২ গ্রামে বিচ্ছিন্নভাবে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলার উত্তর চরখারচর ও দক্ষিণ চরখারচর, নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া ও গোবিন্দনগর ছয়আনী পাড়া, নকলা উপজেলার চরকৈয়া এবং ঝিনাইগাতি উপজেলার বনগাঁও, চতল ও বামনের চরসহ কয়েকটি এলাকায় আগাম ঈদের জামাতগুলো সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ঈদের জামায়াতে পুরুষের পাশাপাশি পর্দার আড়ালে নারী সহ শতাধিক লোকজন ঈদের নামাজে অংশ নেন।









