রেকর্ড সংখ্যক ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে আসন্ন ঈদে। প্রেক্ষাগৃহ সংকটের মধ্যেও এবার প্রায় ডজন খানেকের মতো ছবি মুক্তির বিষয়টি খোদ সিনেমা ব্যবসায় জড়িতরা ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ বলে উল্লেখ করছেন।
মুক্তি পেতে যাওয়া ১৩টির মধ্যে ‘দেয়ালের দেশ’, ‘সোনার চর’, ‘লিপস্টিক’, ‘মেঘনা কন্যা’ এই ৪টি ছবির পরিবেশনা করছেন দ্য অভি কথাচিত্রের কর্ণধার জাহিদ হাসান অভি।
৪টি ছবি পরিবেশনা করলেও ঈদ উৎসবে একসঙ্গে ১৩টি সিনেমা মুক্তি দেয়া ‘ঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে অভি বলেন, বড়জোর ৪/৫টি সিনেমা মুক্তি দেয়া উচিত। বিচ্ছিন্নভাবে প্রযোজকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে এতগুলো ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। শুরুতে প্রত্যেকে ভেবেছিল আওয়াজ দেয়ার জন্য ঈদে মুক্তির কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু পরে ইগো বা মনস্তাত্বিক কারণে কেউ সরে যায়নি।
এতগুলো ছবি দর্শকদের উপভোগ করার মতো হল সংখ্যা দেশে এখন নেই উল্লেখ করে অভি বলেন, এখনো সময় আছে কিছু ছবির সরে যাওয়া উচিত। কারণ, এতগুলো ছবি মুক্তির বিষয়টি অসামঞ্জস্য প্রতিযোগিতা হবে। তবে সবার মধ্যে পোস্টার, ট্রেলার প্রকাশ নিয়ে যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে সেটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। ফাইনালি সিনেমা মুক্তির পর বোঝা যাবে কোন ছবির কেমন দম হবে।
‘শাকিব ভাই আমাদের একমাত্র সুপারস্টার। তার প্রতি হল মালিকদের চাহিদা এক নাম্বারে। আমাদের দেশে সিনেমার ব্যবসাটা যে ঈদ কেন্দ্রিক সেটা বলবো না, তবে ঈদে ব্যবসাটা শাকিব ভাই কেন্দ্রিক। গত ১৫ বছরের খতিয়ান যদি দেখেন ঈদে ৯০ পারসেন্ট ব্লকবাস্টার সিনেমা তার। ঈদ ছাড়াও তিনি বহু ব্লকবাস্টার ছবি দিয়েছেন। এ কারণে শাকিবের সিনেমার প্রতি হল মালিকদের চাহিদা আগে। সিঙ্গেল স্ক্রিনের বাইরে গত ঈদে ‘প্রিয়তমা’ যেভাবে সিনেপ্লেক্স, মাল্টিপ্লেক্সে চলছে, সবখানে ‘রাজকুমার’ এবার গুরুত্ব পাবে এটা খুব স্বাভাবিক। কারণ এই মৌসুমে কেউ লোকসান গুনতে চায় না। উনি থাকলে আসলে সেইফ জোনে থাকা হয়ে যায়। তাই এবার ঈদেও সিনেমা হল সংখ্যার দিক থেকে শাকিব ভাই অন্য সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক বিষয়।’
‘পরাণ’ ছবির পরিবেশক জাহিদ হাসান অভি বলেন, এই ডজনখানেক ছবির মধ্যে যদি ৩/৪টি ছবি ভালো হয় তবে ঈদের আমেজ মাসব্যাপী থাকবে। কারণ, ছবিগুলো ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন হলে যাবে। আমাদের দর্শকরা এখন অনেক ম্যাচিউরড। ফাইনাল রায়টা তারা দেবেন।







