রোজা রেখে ১৬৫ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে কুমিল্লা থেকে কিশোরগঞ্জে এসে ঈদে বাড়তি ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করলেন মো. আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (২৯) নামের এক যুবক। আরিফুলের এমন অভিনব প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানিয়েছে সমাজের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করেন ঈদ আসলেই গণপরিবহন সেক্টরে যে ভাড়া নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় সেই দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত সরকারের।
বুধবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৭ টায় কুমিল্লা ইপিজেড থেকে সাইকেলের যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জে পৌঁছান তিনি।
মো. আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার দড়ি জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের ফাইজুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লা ইপিজেডের এসএবি জিপার ফ্যাক্টরিতে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সামনে কথা হয় মো. আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে। এসময় আরিফুল জানান, চাকরির সুবাদে তিনি ১০ বছর ধরে কুমিল্লায় অবস্থান করছেন। প্রতি বছরের ঈদ আসলেই কোন কারণ ছাড়াই বাসের ভাড়া বৃদ্ধি হয়ে যায়। এবারও তেমনটি হয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি পাঁচশত টাকা ভাড়া দিয়ে কিশোরগঞ্জের বড়পুল মোড় থেকে কুমিল্লায় যান। সেই ভাড়া ঈদ আসার সাথে সাথেই এখন ৭০০ টাকা হয়ে গেছে। এমনকি কুমিল্লা থেকে কিশোরগঞ্জে আসলেও গুনতে হচ্ছে চট্টগ্রাম টু কিশোরগঞ্জের ভাড়া। একেক পরিবহনে একেকরকম ভাড়া নিচ্ছে। এই বিষয়টি দেখার কেউ নাই। তাই তিনি এই ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কুমিল্লা থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে ১৬৫ কিলোমিটার ভ্রমণ করে দীর্ঘ ২৭ ঘন্টা পর কিশোরগঞ্জে পৌঁছেছেন।
তিনি মনে করেন, এটি তার অহিংস প্রতিবাদ। যুবকরা যে চাইলেই কিছু করতে পারে, সেটি তিনি দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন। এই সাইকেল যাত্রায় তিনি বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি বাজারে পৌঁছালে হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় রাত্রি যাপন করে। পরে সাইকেলে রওনা হয়ে সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ শহরে পৌঁছান। এছাড়াও আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম করে থাকেন বলেও জানান তিনি।
আরিফুলের ভাতিজা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনির মুনতাসির বিজয় বলেন, ঈদে ভাড়া নৈরাজ্য সাধারণ মানুষের জন্য একটি বিরাট সমস্যা। সেই সমস্যার জন্য আমার চাচা অভিনব এক প্রতিবাদ জানিয়েছে। চাচা সে বিষয়টি ফেসবুকেও শেয়ার করেছেন। আমি সেই বিষয়টি চাচার ফেসবুক আইডি থেকে দেখে তার সাথে একাত্মতা পোষণ করেছি। ঈদের সময় যাতে ন্যায্য ভাড়া নেয়া হয় সেই সাথে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হয়, সরকারের কাছে সেই দাবিই জানাই।
কিশোরগঞ্জ সদরের ব্যবসায়ী মো. শমসের আলী বলেন, ভাড়তি ভাড়া যে নেয়া হচ্ছে, সেই জন্যই তিনি এই অভিনব প্রতিবাদ করেছেন। গণপরিবহনে দেখা যায় বাড়তি ভাড়া না দিতে চাইলে বাসের শ্রমিকরা যাত্রীদেরকে হেনস্তা ও হয়রানি করে। তাই তিনি কুমিল্লা থেকে সাইকেল চালিয়ে কিশোরগঞ্জে এসে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন। আমাদের দাবি হলো, সবসময় যেন আমাদের কাছ থেকে ন্যায্য ভাড়া নেয়া হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করবেন প্রশাসন।








