৩ ধাপে গুলির আওয়াজে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদ-উল- ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামাতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। বিকল্প ইমাম হিসেবে ছিলেন বড় বাজার মসজিদের খতিব মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ।
আজ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে ১৯৭তম ঈদুল ফিতরের জামাত শুরু হয় সকাল ১০টায়। বিশাল এই মাঠে নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নামাজ শুরুর সংকেত হিসেবে গুলি ছুঁড়ে আওয়াজ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রেওয়াজ অনুযায়ী ঈদের জামাত শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি করে শর্টগানের গুলি ছোঁড়া হয়। আর এই গুলিগুলো ছোঁড়েন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার।
প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের একদিন আগেই চলে এসেছেন অনেক মুসল্লি। ঈদের দিন ভোর থেকেও রিজার্ভ বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে আসেন হাজারো মুসল্লি। নামাজ শুরুর এক ঘণ্টা আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তা, ফাঁকা জায়গা, বাড়ি, বাড়ির ছাদে মুসল্লিরা দাঁড়িয়ে পড়েন নামাজের অপেক্ষায়। বেলা ১০টার পর পরই নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান ইমাম। শুরু হয় ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত। নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক খুতবা প্রদান করেন ইমাম।
আগত লাখ লাখ মুসল্লির নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদগাহে টুপি ও জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছাতা নিয়েও ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ময়দানে নেওয়া হয় ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৪টি স্তর পেরিয়ে মুসল্লিরা মায়দানের ভেতরে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে ছিলো ৪টি ড্রোন। ঈদগাসহ আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণে বসানো হয় ৬৪টি সিসি ক্যামেরা। ঈদগায় ছিলো পুলিশ ও র্যাবের ৬টি ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়াও ছিলো বোমা নিষ্ক্রীয়করণ দল।
শত বছর আগে সোয়ালাখ মুসল্লির নামাজ আদায়ের কারণে ঐতিহাসিক এই মাঠের নাম হয় সোয়ালাখিয়া। কালের বিবর্তনে এখন তা শোলাকিয়া মাঠ। প্রতিবছর এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত।









