মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি মানবিক ত্রাণবাহী প্রথম ২০টি ট্রাককে গাজায় প্রবেশের সুযোগ দেয়ার জন্যে রাফাহ ক্রসিং খুলে দিতে সম্মত হয়েছেন।
বুধবার ১৮ অক্টোবর মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, গাজা থেকে শরণার্থীকে মিশরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না, কারণ এটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী জর্ডানে যাওয়ার পরিস্থিতি শুরু করতে পারে।
ইসরায়েল সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজা হাসপাতালে বোমা হামলার জন্য ইসলামিক জিহাদ গ্রুপকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমি যা দেখেছি তার উপর ভিত্তি করে, মনে হচ্ছে এটি অন্য দল দ্বারা করা হয়েছে। আজকে আমরা যে তথ্য দেখেছি তার উপর ভিত্তি করে মনে হচ্ছে গাজার উপর হামলা একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছড়ানো বিষয়।
মার্কিন সরকার ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষকে সাহায্য করার জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে।
হাসপাতালে বোমা হামলার আলোকে মিশরের প্রেসিডেন্ট, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এবং জর্ডানের রাজারসহ আরও আরব নেতাদের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।
২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েল এবং মিশর দ্বারা অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে নিরলস ইসরায়েলি বিমান হামলা দেখেছে। খাদ্য ও পানির জন্য লড়াই করে বেঁচে থাকা লোকজনের সাথে পুরো আশেপাশের এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস টুইটারে লিখেছেন, গাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে আমাদের সব পক্ষের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।
গাজার পরিস্থিতি এবং মারাত্মক হাসপাতালে বোমা হামলা আরব ও মুসলিম বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। ইরান-সমর্থিত এবং লেবানন-ভিত্তিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে প্রতিবাদস্থল “আমেরিকার মৃত্যু, ইসরায়েলের মৃত্যু” স্লোগান দিয়ে গণসংহতির আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় এখন যে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে করে এ ২০ ট্রাক ত্রাণসহায়তা দিয়ে ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব নয়। কারণ, গাজার ১০ লাখ উদ্বাস্তুর জন্য এখন প্রতিদিন অন্তত ১০০ ট্রাক ত্রাণসহায়তার প্রয়োজন।








