সবজির বাজার কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে চড়া হয়েছে ডিম-মাংসের দাম। এর ওপর আসন্ন কোরবানী ঈদের আঁচ পড়তে শুরু করেছে মসলার বাজারে। এরমধ্যে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল, কাটাসুর, হাতিরপুল, রামপুরা, সেগুনবাগিচাসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে, সেখানকার ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এ চিত্র পাওয়া গেছে।
পটল আর ঢেঁড়শ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬০-৮০ টাকার মধ্যে। এছাড়া অন্যান্য সবজির দাম আরও বেশি। গাজর-শসা ও টমেটোও ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিকেজি কাঁচা মরিচের দাম ৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় উঠেছে।
হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা ইউনুস আলী বলছেন: সব সবজির দাম চড়া। গেল সপ্তাহে প্রচণ্ড গরমে ক্ষেতে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। দাম বেড়ে গেলে আমাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। দাম বাড়ানো-কমানো আমাদের হাতে নেই। আমরা কেবলই কিনে এনে কিছু লাভ রেখে বিক্রি করি।
ব্রয়লার মুরগির দামে ততটা হেরফের না হলেও সোনালি জাতের মুরগির দাম বেশ বেড়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৫০ টাকা। যা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১০০ টাকা বেশি। তবে ব্রয়লার ২২০-২৩০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। আবার বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা দরে ঠেকেছে। পাড়া মহল্লার দোকানে রাখা হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন পর্যন্ত।
বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা, আমদানি পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা, লাল ও সাদা আলু ৫০ টাকা, বগুড়ার আলু ৭০ টাকা, নতুন দেশি রসুন ২০০ টাকা, চায়না রসুন ২২০ টাকা, চায়না আদা ২৪০ টাকা, ভারতীয় আদা ২৬০ দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাড়তি দাম মসলার বাজারে। কেজিপ্রতি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩৮০০ টাকা। গত সপ্তাহে যেটা ছিল ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা কেজি। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০০ টাকা, এর আগে বিক্রি হয়েছে ৫৬০ টাকা পর্যন্ত। জিরা বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।
এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা কবির হোসেন। তিনি বলেন: গত ৩ বছরে বেতন এক টাকাও বাড়েনি। কিন্তু প্রতিদিনই কোন না কোন জিনিসের দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকবে আমাদের মতো নিদৃষ্ট ইনকামের মানুষরা কী করবে আর কী খেয়ে বাঁচবে।
সবজির বাজার:
টমেটো ৭০-৮০ টাকা, দেশি গাজর ৮০-১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০-১০০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১০০-১২০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, করলা ৬০-৮০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, পেঁপে ৮০-১০০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৬০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পটোল ৬০-১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা।
এছাড়া, লেবু ৩০-৪০ টাকা হালি, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুরলতি ৮০-১০০ টাকা, কচুরমুখি ১৪০-১৬০ টাকা, সজনে ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০-৮০ টাকা, চালকুমড়া ৪০-৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা।
মাছ-মাংসের বাজার
মাছের বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আমিষের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখা পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকায়, তেলাপিয়া ২৫০, চাষের কই ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, আর ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের চাষের রুই মাছের দাম হাঁকানো হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা কেজি। বড়গুলো ৩৬০-৪০০ টাকা। বাজারে ইলিশের সরবরাহ তেমন নেই। ৪০০-৫০০ গ্রামের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতিকেজি ১২০০-১৪০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম হলে ১৬০০-১৮০০ টাকা। আর কেজি সাইজের হলে দাম দুই হাজারের ওপরে।
মাংসের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা। খাসির মাংস প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি প্রতি কেজি ৪৩০ থেকে ৪৫০ এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
মসলার বাজার
ঢাকার বাজারে আমদানি (ভারত-ইন্দোনেশিয়া) করা আদা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মসলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ জিরা বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৮৫০ টাকা প্রতিকেজি।
দাম বাড়ার দৌড়ে রয়েছে লবঙ্গ-এলাচ-দারুচিনিও। প্রতিকেজি লবঙ্গ ১৬৮০ থেকে ১৯০০ টাকা, এলাচ ৩০০০ থেকে ৩৮০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খোলা বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা কেজি দরে আর মিনিকেট জাতের চাল ৬৪ থেকে ৭৬ টাকায়। পাশাপাশি খোলা বাজারে খোলা আটা কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা আর খোলা ময়দা ৬০ টাকায়।









