ডিমের বাজার আবারও ঊর্ধ্বমুখী। এক মাসেরও কম সময়ে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ২৫–৩০ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন সাড়ে চার কোটি থেকে পাঁচ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। চাহিদাও প্রায় একই। ফলে সরবরাহ কমে গেলে বা চাহিদা বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে দামে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিম আমদানি ও মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত সেপ্টেম্বরে আবারও আমদানি অনুমোদন দেয় এবং উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বেঁধে দেয়। সেই হিসাবে খুচরায় এক ডজন ডিমের দাম হওয়ার কথা ছিল ১৪২ টাকা ৪৪ পয়সা। কিন্তু তখন বাজারদর দ্রুত বেড়ে ১৮০ টাকায় পৌঁছে যায়। পরে অভিযান ও বৈঠকের মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এলেও চলতি আগস্টের শুরু থেকে ফের দাম বাড়ছে।
এখন বাজারে লাল ডিমের ডজন ১৪৫–১৫০ টাকা, কিছু এলাকায় ১৫৫ টাকা পর্যন্ত। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫–১৪০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল যথাক্রমে ১২০ ও ১১০ টাকা। হাসের ডিমের দাম ২৩০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, সবজি, মাছ-মাংসসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতারা ডিমের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে চাহিদা বেড়ে দামও বাড়ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, শাক-সবজির মতোই ডিমও এখন নাগালের বাইরে।
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘লোকসানে অনেক প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে, সরবরাহ কমেছে। সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দাম বাড়ার পেছনে করপোরেট গ্রুপের কারসাজি আছে। হঠাৎ দাম বাড়ানো-কমানোয় ছোট খামারিরা টিকতে পারছেন না।’
তিনি নজরদারি বাড়ানো ও অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধিকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।









