২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৫৪টি আসন ফাঁকা রেখে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এতে কাঙ্ক্ষিত আসন না পাওয়ায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রশাসন ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ব্যক্তিগত সচিব গোলাম মাহফুজের নিকট স্মারকলিপি জমা দেয় শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, তিনটি ইউনিটে শিক্ষার্থীদের ভর্তি গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত ৫৪টি আসনে ফাঁকা রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর মধ্যে ইউনিটে ৪৮টি এবং সি ইউনিটে ৬টি আসন ফাঁকা রয়েছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১ আসন ফাঁকা রয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে।
এছাড়াও সোশ্যালওয়েলফেয়ারে ৮টি, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে ৪টি, আল ফিকহ, জিওগ্রাফি এন্ড এনভায়রনমেন্ট, টুরিজম, ফোকলোর ও বাংলা বিভাগে ৩টি করে ১৫ টি, জার্নালিজম, ফিন্যান্স, লোকপ্রশাসন ও পরিসংখ্যানে ২ টি করে ৮টি, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, চারুকলা, ইংরেজি, ফার্মেসী ও গণিত বিভাগে ১টি করে ৮টি আসন ফাকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপিতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই মাসের অধিক সময় ধরে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে বলেন, ৮০০ থেকে ১ হাজারটি আসন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও গুচ্ছে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করায় আমরা নিরুপায় হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে রিট আবেদন করেছি। আদালত ফাঁকা আসন দ্রুত পূরণ করার জন্য রায় দেওয়ায় এমতাবস্থায় প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্রক্রিয়ায় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শূন্য আসন পূরণ করছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনপ্রকার ফাঁকা আসন পূরণের উদ্দ্যোগ দেখতে না পাওয়ায় আমরা যত দ্রুত সম্ভব ফাঁকা আসনের তালিকা প্রকাশ করে গণবিজ্ঞপ্তি আহ্বান এবং কোটায় থাকা ফাঁকা আসন নষ্ট না করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করে মেধা বিকাশের সুযোগ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেকেই সেকেন্ড টাইমার আছে যারা এবার ভর্তি হতে না পারলে আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না। একদিকে আসন ফাঁকা রেখে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে অন্যদিকে অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা হতাশায় ডুবে যাচ্ছে। এটা খুবই অন্যায়। আমরা চাই দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শূন্য আসন গুলো পূর্ণ করা হোক। সেই লক্ষে আজ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। আশা করছি প্রশাসন আমাদের দাবিটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।
ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব উপ-রেজিস্ট্রার শহিদুল ইসলাম বলেন, ৫৪টি সিট ফাঁকা রেখে এবারের মতো ইবির গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে। একাধিক মেধাতালিকা প্রকাশিত হলেও আসন পুর্ণ না হওয়ায় আসন ফাঁকা রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আপাতত গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার পরিকল্পনা নেই তবে ভর্তি কমিটির আহবায়ক প্রো-ভিসি স্যার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।









