পৃথিবীতে দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সৌরঝড় আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে স্যাটেলাইট ও বিদ্যুৎ গ্রিডে পড়ে বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলছে শক্তিশালী সৌরঝড় থেকে বাঁচতে পৃথিবীর প্রস্তুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, এই সৌরঝড়টি জি-ফাইভ ক্যাটাগরির চৌম্বকীয় ঝড়। এই ধরনের ঝড়ের প্রভাব পৃথিবীতে পড়ার ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে। সপ্তাহজুড়েই এর প্রভাব পৃথিবীতে থাকতে পারে।
সৌর ঝড়গুলোকে জি-ওয়ান থেকে জি-ফাইভ পর্যন্ত একটি স্কেলে পরিমাপ করা হয়। জি-ফাইভকে ঝড়ের সবচেয়ে চরম স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সূর্য থেকে আসা এই ঝড়ের কারণে পৃথিবীর স্যাটেলাইট এবং পাওয়ার গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রেডিও ওয়েভে প্রভাব পড়ে যোগাযোগ বিঘ্নিত হতে পারে এবং বেশ কিছু এলাকা অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে।

সৌরঝড় থেকে বাঁচতে পৃথিবীর প্রস্তুতি
সাধারণত সৌরঝড়ের প্রভাব পৃথিবীতে খুব একটা পড়ে না। কারণ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র সৌরঝড়ের ফলে সূর্য থেকে নিঃসৃত উত্তপ্ত গ্যাসীয় লাভাকে বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয়। তবে নতুন এই ঝড়ের ধরন বেশ শক্তিশালী এবং ভিন্ন। এই ঝড় ২০২৫ সালে আরও শক্তিশালী হয়ে পৃথিবীতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এর পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে ভাবছেন বিজ্ঞানীরা।
ফ্যারাডে খাঁচা
সৌরঝড়কে কমাতে পারে এমন প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বিদ্যমান। যার নাম ফ্যারাডে খাঁচা। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা সৌরঝড়ের কারণে সৃষ্ট ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালসকে প্রশমিত করতে পারে। ফ্যারাডে খাঁচায় সূক্ষ্ম ধাতব জাল দিয়ে তৈরি ঘের রয়েছে। এই জালটি একটি ফাঁপা কন্ডাকটর বা পরিবাহী হিসেবে কাজ করে যা এর বাইরের পৃষ্ঠ জুড়ে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন তৈরি করে, কোন কিছুকে এর মধ্য দিয়ে যেতে বাধা দেয় এবং দূরে সরিয়ে দেয়। ১৯ শতকের বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে নামে এই বিশেষ প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে।

ক্যাপাসিটর ব্যাংক ও ফ্লাইহুইল
সৌরঝড়ের প্রভাব থেকে পাওয়ার গ্রিডগুলোকে রক্ষা করার জন্য আরও আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা এবং প্রয়োগ করা হচ্ছে। অনেক ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠান এমন ক্যাপাসিটর ব্যাংক তৈরি করছে যা বৈদ্যুতিক শক্তির আকস্মিক উত্থানকে শোষণ করে পরে একে বিলীন করতে পারে। অন্যান্য গবেষণায় আরও দক্ষ ফ্লাইহুইল বা বিশেষ ড্যাম্পেনারের ব্যবহার হচ্ছে যা অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ার আগেই গ্রিড থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নিষ্কাশন করতে পারে।
নেই কোন উপায়, তাই সতর্কতা
সৌরঝড়ের প্রভাব থেকে আমাদের বৈদ্যুতিক অবকাঠামোকে রক্ষা করতে আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন, যথেষ্ট শক্তিশালী ঝড়ের কারণে আমাদের বৈদ্যুতিক গ্রিডের যে ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা রোধ করার জন্য বর্তমানে কোন বাস্তবসম্মত উপায় নেই। এই ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করার একমাত্র নিশ্চিত উপায় হল, সৌরঝড় কোন পথে রয়েছে তা জানা এবং সময়মত এর দ্বারা প্রভাবিত হবে এমন অঞ্চলগুলোর বৈদ্যুতিক গ্রিড বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
আশার কথা হলো, বিশ্বের মহাকাশ সংস্থাগুলো সমস্যাটি নিয়ে কাজ করছে। সৌর আবহাওয়ার পূর্বাভাস যথাসম্ভব নির্ভুল করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য যথেষ্ট সময় থাকে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর গত ১০ মে রাতে প্রথম দফায় পৃথিবীতে আঘাত হানে একটি শক্তিশালী সৌরঝড়। এর আগে ২০০৩ সালের অক্টোবরে পৃথিবীতে এই ধরনের শক্তিশালী সৌরঝড় আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছিল। প্রায় ২০ বছর আগে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় সুইডেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।









