ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ। নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে টানা ৩৪ ঘণ্টা বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ করাতে বাকি সড়কগুলোতে বেড়েছে চাপ, এতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, পলাশী, ফুলার রোডসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ করে দেয়া হয়েছে বন্ধ, গেটে কড়া অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্যরা।

পলাশী, শাহাবাগ মোড়, কাকরাইল, বংশাল, বঙ্গবাজার, হাই-কোর্ট রোডসহ বিভিন্ন রোডে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে নেমে মৌচাকমুখী রাস্তায়ও দেখা গেছে এই যানজটের প্রভাব।
রাস্তায় মহাখালী মুখী বাসে বসে থাকা এক যাত্রী নাসিমা পারভিন বলছেন, আমার অফিস গুলশানে, সেই ২ ঘণ্টা যাবত রাস্তায় যানজটে বসে আছি। জানতাম যে ডাকসু নির্বাচন রাস্তায় চাপ থাকবে কিছুটা তাই আগেই বের হয়েছিলাম, কিন্তু তাও জ্যামে বসে থাকতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বাইকে থাকা আরও এক যাত্রী তাসফিয়া হোসেন বলেন, আমার বাসা পুরান ঢাকা, আমার প্রতিদিনের যাতায়াতের পথ ক্যাম্পাস এলাকা। ডাকসু নির্বাচনের জন্য সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় এখন অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে আবার রাস্তায় এতো ট্রাফিক জ্যাম সাথে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। যদি শহীদ মিনার রোডটা খোলা রাখা হতো তাহলে রাস্তায় চাপ কিছুটা কমতো।

ক্যাম্পাস এলাকায় প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের ডাক্তার মোঃ তানবীর রেজা। তিনি বলেন, আজকে আমার বহির্বিভাগে ডিউটি। শহীদ মিনারের পেছনের গেইট দিয়েই আমি যাতায়াত করি কিন্তু আজকে আমাকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আমি আমার আইডি কার্ড দেখিয়েছি কিন্তু তারা আমার থেকে স্পেশাল পাস চাচ্ছেন। আমাদেরতো ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ কোনো বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করেনি।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঢাবির সব প্রবেশপথ শাহবাগ, পলাশী, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড, উদয়ন স্কুল ও নীলক্ষেত সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। বৈধ আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রবেশ করতে পারবেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক, রোগী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।









