সিলেট ও তার আশেপাশের বেশ কয়েকটি জেলায় স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাচীন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। বন্যার্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, দোয়ারাবাজার উপজেলা এবং দিরাই উপজেলার মোট ৩১০টি পরিবার ও ১৩৭ জন শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ এবং শিক্ষা সামগ্রী উপহার প্রদান করেছে তারা।

গত ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে৷ এতে সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম। ত্রাণ সরবরাহ কার্যক্রমে বিভাগের প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. আলম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম এই বন্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ত সাড়া আমাকে যারপরনাই অভিভূত করেছে। শিক্ষার্থীরা তিন সপ্তাহ ধরে ঢাকার বিভিন্ন শপিং মল ও পাবলিক প্লেসে জড়ো হয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অর্থ সংগ্রহ করেছে। ঈদের ছুটি বাতিল করে দুর্গতদের মাঝে ছুটে গেছে ত্রাণ বিতরণ করতে। সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিন দিন ধরে ত্রাণ বিতরণ করেছে দুঃস্থ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে। শিক্ষার্থীদের এই তৎপরতা সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক।’

ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন মাহি বলেন,’কিছুদিন আগে আমাদের বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সুনামগঞ্জে বন্যায় আটকা পড়ে এবং সেখানের মানুষের কষ্ট খুব কাছ দেখে দেখার সুযোগ পায়। এরপর বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগ নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশাপাশি আমরা এসএসসি এবং এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।’
গত ১৬, ১৭ ও ১৮ জুলাই সুনামগঞ্জের তিনটি উপজেলার ১১টি স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।








