অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব থেকে বেশি আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে। এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন: সব থেকে বেশি উপকার যে করেছে, তার নামে এখন সে গীবত গেয়ে বেড়াচ্ছে। আসুক না মাঠে। ডিবেট (বিতর্ক) হয় না? তার সঙ্গে সরাসরি ডিবেট করবো। তার কথা হচ্ছে, উপকারিকে বাঘে খাক। যেনো উপকার স্বীকার করতে না হয়। শেখ হাসিনা কাউকে ঈর্ষা করে না, আমি জাতির পিতার কন্যা।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিরুদ্ধে রচলমান মামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন: বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। ড. ইউনূসের বিচার নিয়ে যেসব বিদেশি কথা বলছেন, তাদের দেশে বছরের পর বছর ট্যাক্স ফাঁকি দিলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে প্রশ্ন করা যায় তাদের। ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে হেরে যান। তিনি অবৈধভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে অতিরিক্ত ১০ বছর থেকে আরও থাকতে চাচ্ছিলেন। শ্রমিকরা মামলা করেছেন। তিনি সাজা পেয়েছেন, এতে আমার কী দোষ?’
তিনি বলেন: গ্রামীণের ব্যবসাটা তাকে আমি করে দিয়েছিলাম। তার ব্যবসা দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বলা হয়ে থাকলেও মূলত তা দারিদ্র্য লালন করেছে। উনার কার্যক্রম কতটুকু দারিদ্র্য দূর করেছে আর শেখ হাসিনার সরকার কতটুকু দারিদ্র্য দুর করেছে? বলা হয়, উনি নোবেল পাওয়ায় আমি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে হয়রানি করছি। আমার নোবেলের কোনো আকাঙ্খা নেই। লবিস্ট রাখার টাকাও নেই। নোবেলের বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন: ২০০৭ সালে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গ্রামে তার এতো জনপ্রিয়তা থাকলে দল করতে পারলেন না কেন। আমি তো জেলে ছিলাম। আজ সব দোষ আমার! অথচ তাকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা আমি দিয়েছি। যারা শ্রমিক অধিকার নিয়ে কথা বলে, তারা শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে কেন?’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ২১ জুন দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যান।
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর ভারতে কোনো সরকারপ্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। এছাড়া সফরটি ছিল ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। গত ৯ জুন মোদির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে সাতটি নতুন এবং তিনটি নবায়নসহ ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।









