অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বৈষম্যমুক্ত ও স্বাধীন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের আসন্ন অধিবেশনেই রেজ্যুলেশন চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
সোমবার (২৬ আগস্ট) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, চিঠিটি লেখা হয়েছে গত ১৯ আগস্ট। প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছেও চিঠিটি পাঠানো হয়েছে এবং ২৬ আগস্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে এইচআরডব্লিউ জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের প্রশাসনে জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ তদন্ত ব্যবস্থা গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারেরও এইচসিএইচআর এবং সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করা উচিত।
সংগঠনটি জানায়, গণবিক্ষোভের মাধ্যমে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব অনেক। তাই সরকারের উচিত সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে স্বাধীন অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সমর্থন চাওয়া। এছাড়া জরুরিভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেসামরিক তদারকি, কুখ্যাত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব বিলুপ্ত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ সংস্কার ও অবমাননাকর আইন সংশোধনে জোর দেওয়া উচিত।
ওএইচসিএইচআর জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের প্রশাসনে গুম, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য এবং আন্তর্জার্তিক মানদণ্ড ঠিক রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিৎ জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করা।
সংগঠনটি জানায়, এছাড়া হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশ কর্মবিরতিতে গিয়েছিল, হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়েছিল। বর্তমানে পুলিশ কাজে ফিরেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যদিও প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ও দায়ীদের তদন্ত ও বিচার করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তাই সহিংস ঘটনা এবং এর মূল কারণগুলো জবাবদিহির আওতায় আনতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য এবং বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার জন্য ব্যাপকভাবে স্বীকৃত একটি স্বাধীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানানো হয় ওই চিঠিতে।









